একসময় তৃণমূল পরিচালিত টাকি পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন তিনি। পুরসভার একাধিক আর্থিক দুর্নীতি, পুরবোর্ড পরিচালনায় বেনিয়ম-সহ একাধিক ইস্যুতে টাকি পুর প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন খোদ তৃণমূল কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস। লিখিত অভিযোগে বিগত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের কাছে এই দুর্নীতির কথা তুলেও ধরে ছিলেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। উপরন্তু জুটেছিল শাসানি, চোখ রাঙানি আর খুনের হুমকি। বাধ্য হয়ে এক প্রকার চুপ থাকতে হয়েছিল। এবার কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন টাকি পুরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের সেই কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস। টাকি পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ই-মেইল মারফত তিনি তাঁর ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। ইস্তফাপত্র দিয়েছেন বসিরহাটের মহকুমা শাসককেও। যদিও কেন এই ইস্তফা ? তার কারণ ও কাউন্সিলরের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এনিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে কিছু বলতে চাননি তিনি।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের ভরাডুবির বাজারে একদিকে যেমন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম থেকে শুরু করে বিধাননগর পুর নিগমের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর মতো হেভিওয়েটরা ইস্তফা দিচ্ছেন সেই পরিস্থিতিতে এই প্রথম টাকির কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাসের ইস্তফা জল্পনা ছড়িয়েছে। যেখানে টাকি বিধানসভা বসিরহাট দক্ষিণে তৃণমূল জিতেছে। বছর তিনেক আগেও তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ ঘোষণা করে পদত্যাগ করেছিলেন শাসক দলের পাঁচ কাউন্সিলর। সেই নেতৃত্বে ছিলেন এই প্রদ্যুৎ দাস। এমনই ঘটনায় এ দিন শোরগোল পড়ে যায় বিধানসভা চত্বরেও৷ কারণ পদত্যাগপত্র নিয়ে সেখানেই হাজির হয়েছিলেন টাকি পুরসভার পাঁচ বিদ্রোহী পুর প্রতিনিধি।
পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক গাজির বিরুদ্ধে আর্থিক তছরূপ, মারধর-সহ একাধিক অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছিলেন তাঁরা৷ শাসক দলের এই অভ্যন্তরীণ কাজিয়ায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নদীপাড়ের শহর টাকিতে। উত্তর ২৪ পরগনার টাকি পুরসভায় মোট ১৬টি ওয়ার্ড৷ গত পুরসভা নির্বাচনে এর মধ্যে ১৪ টিই দখল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস৷ ২টি আসনে জেতে বিজেপি৷ ফলে পাঁচজন কাউন্সিলর শেষপর্যন্ত পদত্যাগ করলেও পুরসভা শাসক দলের হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা নেই৷ যদিও এই ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তিতে ছিল শাসক দল৷
