ভয়মুক্ত সমাজ ও দ্রুত সুশাসনের আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেখানো পথ অনুসরণ করলেন কুলটির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ডাক্তার অজয় পোদ্দার। এলাকায় প্রথমবার তিনি ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি করলেন। সোমবার, কর্মসূচির প্রথম দিনেই সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার এই উদ্যোগে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। পানীয় জলের সঙ্কট, নিকাশি নালা বুজে যাওয়া থেকে শুরু করে একাধিক সমস্যা নিয়ে হাজির এলাকার সাধারণ মানুষ। বিগত পুরবোর্ডের জমানায় বকেয়া বিল না পাওয়া ঠিকাদারদের ক্ষোভও এদিন দেখা যায়। ঠান্ডা মাথায় সব কিছু শোনেন মন্ত্রী। সমস্যা সমাধান করেন।
বিগত সরকারের উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। সেই কারণে কুলটির একটা বড় অংশের মানুষ এতদিন নুন্যতম নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অভিযোগ, বিদায়ী শাসকদলের অনুগামী না হওয়ার অপরাধে বহু গৃহস্থের বাড়ির আবর্জনা পর্যন্ত সাফ করা হয়নি। এলাকায় জঞ্জালের পাহাড় জমে উঠেছিল। তবে রাজনৈতিক ভীতি কাটিয়ে নতুন সরকারের দেওয়া অভয়ে ভরসা রেখেছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা এখন সোচ্চার হতে শুরু করেছেন। জনতার দরবারে এসে সেই সুফলের কথাই শোনালেন সীতারামপুর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বন্দনা রায় চৌধুরী। তিনি জানান, দীর্ঘ ৫ বছর ধরে একটি সমস্যা নিয়ে তিনি হাজির হয়েছিলেন। দ্রুত সেই সমস্যার সমাধান হল।
মন্ত্রী ডাক্তার অজয় পোদ্দার জানান, বিগত ৫ বছর তিনি বিধায়ক থাকলেও বিরোধী আসনে থাকার কারণে মানুষের জন্য কাজ করতে দেওয়া হয়নি। পূর্বতন সরকার নিজেই অচল ও নিষ্ক্রিয় ছিল। এবার কুলটির খোলনলচে বদলে ফেলতে তিনি বদ্ধপরিকর। পানীয় জল, শিক্ষা, এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার আমূল সংস্কারই তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার। ইতিমধ্যেই বরাকর হাসপাতালের ৩০ শয্যার অনুমোদন মিলেছে। কুমারডিহায় দখল হওয়া ১২ বিঘা সরকারি জমি উদ্ধার করে সেখানে বাউন্ডারি ও আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হচ্ছে। আসানসোল পুরনিগমের অধীনে বন্ধ থাকা সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিকে সচল করতে সেগুলিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
