পরীক্ষার হলে আর পৌঁছনো হল না উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর। পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে কিছু দূরেই পথ দুর্ঘটনায় মারা গেল সে। ওই ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। পথ অবরোধও করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার (Bankura) জয়পুরে। মৃত ছাত্রের নাম জুয়েল শেখ, জয়পুর থানার বিক্রমপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জুয়েল শেখ জুজুড় হাই স্কুলের ছাত্র ছিল। এদিন সকালে ভূগোল পরীক্ষা দিতে জয়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছিল সে। অভিযোগ, প্রসাদপুর স্কুল সংলগ্ন চৌমাথা মোড়ে বিদ্যুতের খুঁটি বোঝাই একটি ইঞ্জিনভ্যানের সঙ্গে তার মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়দের দাবি, ইঞ্জিন ভ্যানটি বেপরোয়া গতিতে আসছিল। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয় সে। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে জয়পুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর ছড়াতেই হাসপাতালের সামনে ভিড় জমায় পরিবার ও গ্রামবাসীরা। একমাত্র ছেলের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা–বাবা। শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম। ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজশোল মোড়ে বাঁশ ফেলে রাস্তা অবরোধ শুরু হয়। বিষ্ণুপুর আরামবাগ দু’নম্বর রাজ্য সড়কে সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। প্রায় একঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকে সড়ক। অবরোধকারীদের অভিযোগ, পরীক্ষা চলাকালীন ভারী ও বিপজ্জনক যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণের কথা থাকলেও প্রশাসন সে বিষয়ে উদাসীন। বিদ্যুতের খুঁটি ও ভারী যন্ত্রাংশ বোঝাই ইঞ্জিন ভ্যানটি কীভাবে এত ব্যস্ত সময়ে রাস্তায় চলাচল করছিল? সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
জুজুড় হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক প্রবীর কর জানান, “পরীক্ষা কেন্দ্র কমিটির বৈঠকে বারবার বলা হয়েছে, পরীক্ষা চলাকালীন যেন ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পুলিশকে অনুরোধও করা হয়েছিল। আজ আমাদের ছাত্রকে হারিয়ে আমরা বাকরুদ্ধ।” খবর পেয়ে জয়পুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে। পরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
