উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন বাংলার বাড়ি প্রকল্প নিয়ে সরকারি প্রচারে মাইক কীভাবে ব্যবহার করা হয়? এই প্রশ্ন তুলে বিডিওকে একাধিকবার ফোন করেছিলেন বিজেপির যুব মোর্চার বর্ধমান বিভাগের কনভেনর সৌমেন কার্ফা। অভিযোগ, বিডিও কল রিসিভ করেননি। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সটান ভাতারের বিডিওর চেম্বারের সামনে ধর্নায় বসে পড়লেন সৌমেন কার্ফা। সোমবার বিকেলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল অফিস চত্বরে। ঘটনার সময় বিডিও দেবজিৎ দত্ত ছিলেন নিজের কোয়ার্টারে। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির অফিস ঘরে তখন বৈঠক চলছিল। ওই বৈঠকে ছিলেন ভাতারের তৃণমূল বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে তিনি বেড়িয়ে আসেন। সৌমেন কার্ফাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন বিধায়ক। দেখা যায়, বিডিওর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি ততই উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন। শেষে বিধায়কের হস্তক্ষেপে সৌমেন কার্ফার সঙ্গে আসা তাঁর দলের কয়েকজন কর্মী যুবনেতাকে সরিয়ে নিয়ে যান।
ঘটনাটি ঠিক কি? জানা গিয়েছে, এদিন সোমবার ভাতারের বামুনাড়া গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় ঘুরে ঘুরে গৃহসম্পর্ক অভিযানে বেড়িয়েছিলেন বিজেপির যুবনেতা সৌমেন কার্ফা। তিনি নিজের চারচাকা গাড়িতে চড়ে ঘুরছিলেন। ঝুঝকোডাঙ্গা গ্রামে সৌমেন কার্ফা যেতেই তাঁর নজরে পড়ে ব্লক প্রশাসনের তরফে পাঠানো একটি ম্যাটাডোর গাড়ি ওই এলাকায় মাইকিং করে প্রচার করছে। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অনুদান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে উপভোক্তাদের অবগত করতেই সরকারি ব্যানার লাগানো ওই প্রচার গাড়ি ঘুরছিল। একদিকে যখন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে, সেই সময় মাইক বাজিয়ে গাড়িতে সরকারি প্রচার হতে দেখে সৌমেন কার্ফা প্রথমে তার ভিডিও ক্যামেরাবন্দি করেন। তারপর তিনি ফোন করেন ভাতারের বিডিওকে।
সৌমেন কার্ফার অভিযোগ, " আমি বারবার বিডিওকে ফোন করি। তিনি ফোন ধরেননি। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় সরকারি বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও খোদ প্রশাসন কিভাবে বিধিভঙ্গ করে? আমি মহকুমাশাসকের কাছেও ফোনে অভিযোগ জানিয়েছি।" দেখা যায় ঝুঝকোডাঙ্গা থেকে ঘুরে আসার পরেই কয়েকজন অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে বিডিও অফিসে চলে আসেন সৌমেন কার্ফা। বিডিওর অফিসঘরের সামনে ধর্নায় বসে পড়েন। তুমুল চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে বেড়িয়ে আসেন বিধায়ক। শেষমেশ বিধায়কের হস্তক্ষেপে বিডিও দপ্তর ছাড়েন ওই বিজেপি নেতা। যাওয়ার সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, "কেন উনি নিয়ম ভাঙার পরেও ফোন ধরবেন না? বিডিওর এত অহঙ্কার কিসের? বিডিও নিজেকে যা মনে করেন তৃণমূল নেতাদেরও এত অহঙ্কার নেই।" যদিও মাইক বাজানো নিয়ে ভাতারের বিডিও দেবজিত দত্ত বলেন, "মাইক বাজিয়ে প্রচারের বিষয়টি আমাদের নজরে ছিল না। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।"
