দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: ভালবাসার মানুষকে বিয়ে করেছিলেন। দুজনে সুখে ঘর করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু বিয়ে করার পর থেকেই স্ত্রীর বাপের বাড়ির হুমকিতে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নবদম্পতি। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে বিচারের আশায় আরামবাগ মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের দ্বারস্থ দুজনে।
[পাথরপ্রতিমায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু দম্পতির, বাঁচাতে গিয়ে আহত ছেলে]
হুগলির গোঘাটের কাঁটাগোড়িয়ার মেঘমালা ও নকুণ্ডার বাসিন্দা প্রসেনজিতের মন দেওয়া নেওয়া হয়ে গিয়েছিল অনেকদিন আগেই। সম্পর্ক চলতে থাকে আপন ছন্দে। এরই মাঝে নিজের পড়াশোনা শেষ করেন মেঘমালা। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবসাতেও ভালই আয় করতে শুরু করেন তাঁর প্রেমিক। কিন্তু মেঘমালার বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য চাপ আসতে থাকে। তবে প্রসেনজিৎকে কখনই মেনে নেননি মেঘমালার পরিজনেরা। তাই বাধ্য হয়েই মনের মানুষের সঙ্গে ঘর বাঁধতে বাপেরবাড়ি ছাড়েন মেঘমালা। বৃহস্পতিবার প্রথমে হিন্দু শাস্ত্রমতে ও পরে রেজিস্ট্রি করে প্রসেনজিৎ ও মেঘমালার চার হাত এক হয়। বাপেরবাড়িতে অমতে বিয়ে হলেও, শ্বশুরবাড়ির পুরোপুরি সমর্থন পেয়েছিলেন নবদম্পতি।
[ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যুবকের, বালুরঘাটে চাঞ্চল্য]
কিন্তু বিয়ের পর থেকেই নবদম্পতির জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। প্রসেনজিতের বাড়িতে আসতে শুরু করে একের পর এক হুমকি ফোন। মেঘমালার অভিযোগ, তাঁর বাবা ও দাদাই ফোনে প্রসেনজিৎ ও তার পরিবারের লোকজনদের হুমকি দিচ্ছে। প্রসেনজিতের জামাইবাবুকে মেঘমালার বাপের বাড়ির লোকজনদের হাতে হেনস্তার শিকারও হতে হয়। নিরাপত্তার অভাবে ভয়ে শ্বশুরবাড়ি যেতে পারছেন না তিনি। ভয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু এভাবে কতদিন পালিয়ে বেড়ানো যায়?
নিরাপত্তার অভাবে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নবদম্পতি। মেঘমালা শনিবার তাঁর স্বামী প্রসেনজিৎকে নিয়ে আরামবাগ মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের দপ্তরে যান। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক কৃশাণু রায়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি৷ বাপের বাড়ির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মেঘমালা। নবদম্পতিকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক।
The post বাপের বাড়ির অমতে বিয়ে, বাবা-দাদার হুমকিতে ঘরছাড়া হুগলির নবদম্পতি appeared first on Sangbad Pratidin.
