লর্ডসে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়। ভারতের মেয়েদের দাপটে উড়ে গেল ইংল্যান্ড। যস্তিকা ভাটিয়া, ক্রান্তি গৌড়, স্নেহ রানাদের অনবদ্য পারফরম্যান্সে 'ওমেন্স ইন ব্লু' জিতল ২৭০ রানে। লর্ডসে এই প্রথম কোনও টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হল। সেখানে হাসতে হাসতে জয় হরমনপ্রীত কৌরদের। আর সেই তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেন শচীন তেণ্ডুলকর। চতুর্থ দিনের শুরুতে মাঠে নেমে পেপ টক দিলেন 'ক্রিকেটের ঈশ্বর'। তারপরই ঐতিহাসিক জয়।
জয় যে আসতে চলেছে, সেটা তৃতীয় দিনেই বোঝা গিয়েছিল। লর্ডসে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ভারত ২৮৫ রান তোলে। ৮৩ রানে আউট হন স্মৃতি মন্ধানা। জবাবে ১৭০ রানে অলআউট ইংল্যান্ড। মাত্র ৩৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট তোলেন ক্রান্তি গৌড়। তাঁর শিকার মাইয়া বাউচিয়ের, তামসিন বিউমন্ট, ন্যাট স্কিভার-ব্রান্ট, অ্যালিস ক্যাপসি ও লরেন বেল। প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে লর্ডসে পাঁচ উইকেটের সোনালি ইতিহাস গড়েন ক্রান্তি। তাঁর নাম উঠেছে লর্ডসের অনার্স বোর্ডে।
১১৫ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নামে টিম ইন্ডিয়া। এবার ইংল্যান্ডকে আরও চাপে ফেলেন যস্তিকা ভাটিয়া। এই ইনিংসেও ৭০ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে যান স্মৃতি। কিন্তু যস্তিকা অনবদ্য। ১৫৮ বলে ১১৩ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। মারেন ১৪টি চার। প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে ঐতিহাসিক লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম উঠছে যস্তিকার। এরপর বাংলার রিচা ঘোষের ঝোড়ো হাফসেঞ্চুরিতে ৩৪১ রান তুলে ডিক্লেয়ার ঘোষণা করেন ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। ইংল্যান্ডের জন্য বিরাট ৪৫৭ রানের লক্ষ্য দেওয়া হয়।
জবাবে সেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি ইংল্যান্ড। পঞ্চম দিনের শুরুতে মাঠে নেমে 'পেপ টক' দেন শচীন। তারপর স্নেহ রানার বোলিংয়ে একের পর এক ইংরেজ ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। ৪২ রান দিয়ে ৪ উইকেট পান ভারতীয় বোলার। এছাড়া সায়ালি সাতঘারে, ক্রান্তি গৌড়, দীপ্তি শর্মা দু'টি করে উইকেট পান। মাত্র ১৮৬ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। লর্ডসের প্রথম টেস্ট জয় কৃতিত্ব লেখা রইল ভারতের নামে।
