চোখের সামান্য সমস্যা ভেবে বিষয়টিকে অনেকেই এড়িয়ে যান। কিন্তু এক চোখে হঠাৎ কয়েক মিনিটের জন্য ঝাপসা দেখা (Blurred Vision), তারপর আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া সব সময় নিরীহ উপসর্গ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অনেক ক্ষেত্রেই স্ট্রোকের আগাম সতর্কবার্তা। তাই এমন ঘটনা ঘটলে অবহেলা নয়, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এই অবস্থার নাম অ্যামাউরোসিস ফুগাক্স। রেটিনায় সাময়িকভাবে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে এক চোখ কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের জন্য দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে। অনেকের মনে হয়, যেন একটি কালো পর্দা ধীরে ধীরে চোখের সামনে নেমে এসেছে। কিছুক্ষণ পর দৃষ্টি আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। আর এখানেই সবচেয়ে বড় ভুল করেন অনেকেই। উপসর্গ সেরে যাওয়ায় চিকিৎসকের কাছে আর যান না।
কিন্তু চিকিৎসকদের ভাষায়, অ্যামাউরোসিস ফুগাক্স হল চোখের ক্ষেত্রে 'মিনি স্ট্রোক' বা ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ)-এর সমতুল্য। অর্থাৎ, শরীর জানিয়ে দিচ্ছে, মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং ভবিষ্যতে বড় স্ট্রোকের আশঙ্কাও রয়েছে।
শরীরের ছোট সতর্কবার্তাকেও গুরুত্ব দিন। ছবি: সংগৃহীত
কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?
নিচের কোনও উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—
- এক চোখে হঠাৎ ঝাপসা দেখা
- কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক মিনিটের জন্য দৃষ্টিশক্তি আংশিক বা পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়া
- চোখের সামনে কালো ছায়া বা পর্দা নেমে আসার অনুভূতি
- কিছুক্ষণ পর আবার দৃষ্টি স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া
এর সঙ্গে যদি মাথা ঘোরা, শরীরের একদিকে দুর্বলতা, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া বা কথা বলতে অসুবিধার মতো উপসর্গও থাকে, তাহলে স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
কেন হয় এই সমস্যা?
এর প্রধান কারণ রেটিনায় সাময়িকভাবে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া। এর নেপথ্যে থাকতে পারে—
- ক্যারোটিড ধমনিতে সংকোচন
- উচ্চ রক্তচাপ
- ডায়াবেটিস
- উচ্চ কোলেস্টেরল
- অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন, বিশেষ করে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন
- রক্ত জমাট বেঁধে রেটিনার রক্তনালিতে সাময়িক বাধা
তবে মাইগ্রেনের ক্ষেত্রেও দৃষ্টির সমস্যা হতে পারে। পার্থক্য হল, মাইগ্রেনে সাধারণত দু'চোখেই সমস্যা হয় এবং তার সঙ্গে মাথাব্যথা বা ঝলমলে আলো দেখার মতো উপসর্গ থাকে।
অবহেলায় বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি। ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে ধরা পড়ে?
কারণ খুঁজে বের করতে চিকিৎসক চোখ ও রেটিনার পরীক্ষা, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা, ক্যারোটিড ধমনির আল্ট্রাসাউন্ড, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম এবং প্রয়োজনে এমআরআই বা ব্রেন অ্যাঞ্জিওগ্রামের পরামর্শ দিতে পারেন।
চিকিৎসা কী?
চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার কারণের উপর। রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে রক্ত পাতলা করার ওষুধ দেওয়া হতে পারে। আবার ক্যারোটিড ধমনিতে গুরুতর সংকোচন থাকলে অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হতে পারে।
মনে রাখবেন, এক চোখে কয়েক মিনিটের জন্য দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আবার স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া মানেই বিপদ কেটে গেছে, এমন নয়। শরীরের এই ছোট্ট সতর্কবার্তা গুরুত্ব দিলে স্ট্রোক এবং স্থায়ী দৃষ্টিহানি, দুই এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
