পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে ধাক্কা উত্তরের পর্যটন শিল্পে! গতকাল, শুক্রবার থেকেই বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৯৯৪ টাকা বেড়ে গিয়েছে। পর্যটন কেন্দ্র দার্জিলিং-সহ আশপাশের এলাকার হোটেল ও হোম স্টে মালিকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় প্রায় হাজার টাকা বেড়ে যাওয়ায় খাবারের দাম ও হোটেল ভাড়াও বাড়তে চলেছে। এমন ইঙ্গিত মিলছে। কিন্তু কতটা বাড়বে, সেটি শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দার্জিলিংয়ের হোটেল এবং হোম স্টে কর্তৃপক্ষ জানাতে পারেননি। এদিকে ১ মে'র আগের বুকিং নিয়ে বিপাকে পড়েছে ট্যুর অপারেটর সংস্থাগুলো। কারণ, ওই ক্ষেত্রে ট্যুর প্যাকেজ রেট বাড়ানো সম্ভব হবে না। স্বভাবতই বিরাট লোকসানের আশঙ্কা করছেন ট্যুর অপারেটররা।
রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু বলেন, "কমার্শিয়াল গ্যাসের দাম ভোট শেষ হতে বাড়বে সেই সম্ভাবনা ছিলই। কিন্তু একলাফে এতটা বাড়বে ভাবা যায়নি। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে হোটেল, রেস্তরাঁ, ক্যাটারিং এবং রাস্তার খাবারের ব্যবসায়। কারণ, সেখানে বাণিজ্যিক গ্যাস প্রধান জ্বালানি। ফলে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে খাবারের দাম বাড়াতে পারেন। হোটেলে ভাড়া বাড়বে। ফলে টান পড়বে পর্যটকদের পকেটে।" জানা গিয়েছে, ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৯৯৪ টাকা বেড়েছে। নতুন দাম হয়েছে ৩,২০২ টাকা। বাণিজ্যিক গ্যাসের দামবৃদ্ধির ফলে হোটেল, রেস্তোঁরা ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে খাবারের দাম বাড়াবেন, নাকি রেস্তোঁরা বন্ধ রাখবেন দোলাচালে পরেছেন অনেকেই।
দার্জিলিং হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় খান্না বলেন, "কোনও উপায় নেই। হোটেলের ভাড়া বাড়বে। খাবারের দামও বাড়াতে হবে।" অর্থাৎ দার্জিলিং-সহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে হোটেল মালিকরা তাদের খরচ মেটাতে রুম ভাড়া অথবা প্যাকেজ মূল্য বাড়াতে বাধ্য হতে পারেন। রেস্তরাঁয় খাবারের দাম বাড়তে পারে। খাবারের খরচ এবং হোটেল ভাড়া বাড়লে পর্যটকদের ভ্রমণ খরচ বাড়বে। এটা অনেকের পক্ষে বহন করা সম্ভব হবে না। এছাড়াও ছোট হোটেল ও খাবারের দোকানগুলোর লোকসানের মুখে পড়তে পারে। সব মিলিয়ে বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পর্যটন শিল্পের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
