ভোটের ফলাফল বেরোনোর পর গত ৭ মে শিবপুরের চওড়া বস্তিতে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার হাওড়া জেলা সভাপতি সিকান্দার খানের বাড়িতে ও পাড়ায় বোমাবাজি ও গুলি চালনার অভিযোগ উঠেছিল। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সেই ঘটনায় অভিযুক্ত ৪ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও মূল অভিযুক্ত শামিম আহমেদ ওরফে বরেকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত পলাতক বরে। তবে গত বৃহস্পতিবার ঘটনার পরই শুক্রবার শিবপুরের শীল বস্তিতে শামিমের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে তাজ্জব বনে যান পুলিশ আধিকারিকরা। শামিমের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও কয়েক লক্ষ টাকার আসবাব দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে যান হাওড়া সিটি পুলিশের কর্তারা। এমনকী বাড়ির মধ্যে সুড়ঙ্গের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি।
বিলাশবহুল ফ্ল্যাটের ভিতর পুলিশের তল্লাশির সময়কার সেই ভিডিও ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। শামিম আহমেদ ওরফে বরে হাওড়া পুরসভার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের ওয়ার্ড প্রেসিডেন্ট হয়ে কীভাবে বিপুল সম্পত্তির মালিক হল তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন শামিম আহমেদের স্ত্রী শামিমা বানো ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত হাওড়া পুরসভায় তৃণমূলের কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি কাউন্সিলর থাকার সময়তেই শামিমার স্বামী শামিম আহমেদ বিপুল পরিমাণে সম্পত্তি করেন। তার পর তৃণমূলের ওয়ার্ড প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ও নিজের সম্পত্তি বাড়ান শামিম।
শুধু সম্পত্তি বাড়ানোই নয়, শামিম আহমেদের নামে শিবপুর থানায় একাধিক ধারায় মামলা রয়েছে। এমনকী গোষ্ঠী সংঘর্ষ লাগানোর জন্য এনআইএ-র কাছেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এর আগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খেটেছে শামিম। জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার পুলিশের কাছে খবর আসে শিবপুরের শীল বস্তিতে শামিম আহমেদের ফ্ল্যাটের ছাদে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কিছু দুষ্কৃতীকে জড়ো করেছে শামিম। খবর পেয়েই বিশাল পুলিশ বাহিনী শামিম আহমেদের ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখে সেখানে তালা দেওয়া। তখন পুলিশ সিঁড়ি বেয়ে শামিমের ফ্ল্যাটের ছাদে ওঠে। ছাদের বন্ধ দরজা ভেঙে সিঁড়ি দিয়ে নামতেই পুলিশ দেখতে পায় ওই আবাসনের তিন তলা ও চার তলা দু’টি ফ্লোরে শামিম থাকে। আর ওই দু’টি ফ্লোরে ফ্ল্যাটগুলির দরজা ভাঙতেই পুলিশ দেখতে পায় বিলাসবহুল আসবাবপত্রে ঠাসা বিলাসবহুল ঘর। এছাড়া ছাদে রয়েছে সাজানো বাগান। এমনকী অপর একটি ফ্ল্যাটের ছাদে ছাগলের চাষ করে রেখেছে শামিম! পুলিশ আরও দেখতে পায় পাশের ফ্ল্যাটের ওই ছাদে প্রচুর ছাগল বাঁধা। নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফ্ল্যাটের ছাদে ছাগলের চাষ কীভাবে তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, অস্ত্র আইন, দাঙ্গা লাগানোর মতো মামলা শামিম আহমেদের বিরুদ্ধে রয়েছে। একবার এনআইএ-র হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিল শামিম। এই প্রসঙ্গে শিবপুরে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি সিকান্দার খান বললেন, ‘’৩৪ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডন এই শামিম আহমেদ। এলাকায় পোর্ট ট্রাস্টের জমি দখল থেকে শুরু করে নানারকম বেআইনি কাজ বিশেষত আবাসন তৈরির জন্য জমি দখল, তোলাবাজি ও এলাকা দখল সবই করেছে শামিম। এলাকায় নানা অসামাজিক কাজ করেছে। আমাদের মারধর এমনকী খুন করার চেষ্টাও করেছে।''
বিজেপি নেতার কথায়, শুধু শিবপুরে নয়, শামিম আহমেদের ওড়িশা-সহ বিভিন্ন জায়গায় একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। এতদিন তৃণমূলে থেকে তৃণমূলের এক নেতার ছত্রছায়ায় এসব করেছে। কিন্তু এখন রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। আর ওসব করে পার পাবে না বলেই হুঁশিয়ারি সিকান্দার খানের। প্রসঙ্গত, এলাকায় কার্যত দুষ্কৃতী বলে পরিচিত শামিম আহমেদকে রাজ্যের তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রী, সাংসদদের সঙ্গে ছবিতে দেখা যাচ্ছে। সেইসব ছবি এখন সামনে আসছে।
