২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বাড়িতে হামলা চলেছিল। বিজেপি করার 'অপরাধে' বিভিন্ন সময় পরিবারের সদস্যদের মারধর ও ভয় দেখানোও হত! সেসময়ই বিজেপি কর্মী প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, দল রাজ্যে ক্ষমতায় এলে দণ্ডি কেটে পুজো দেবেন। দেড় দশক মাটি কামড়ে, চোয়াল শক্ত করে এলাকায় বিজেপির হয়েই প্রচার করেছেন। একাধিকবার তৃণমূলের রোষের অনলেও পড়তে হয়! এবার রাজ্যে পালাবদল হল। ৮ কিমি দণ্ডি কেটে পুজো বিজেপি কর্মী সঞ্জীব ঘোষের। ঘটনাটি হুগলির পাণ্ডুয়ার।
পাণ্ডুয়ার বিজেপি কর্মী সঞ্জীব ঘোষ দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী। তাঁর দাদা রণজিৎ ঘোষ স্থানীয় বিজেপি নেতা। বাম আমল থেকেই ওই পরিবার বিজেপি করে বলে খবর। ২০১১ সালে রাজ্যে সিপিএমকে হারিয়ে তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল। অভিযোগ, ওই পরিবারের উপর শুরু হয় হামলা। তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকে রণজিৎকে বেধড়ক মারধর করেছিল বলে অভিযোগ। সেই ঘটনা দেখে আঁতকে উঠেছিলেন ভাই সঞ্জীব ঘোষ। তখনই ঠিক করেছিলেন রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়লে দণ্ডি কেটে পুজো দেবেন। গত ১৫ বছরে একাধিক নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু বিজেপি ভালো ফল করলেও সরকার গঠন করতে পারেনি।
এবার তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে বিজেপি রাজ্যে জিতেছে। ২০৭টি আসনে জয়ী করেছে বিজেপি। হুগলি জেলাতেও ভালো ফল করেছে বিজেপি। এরপরই সেই পূরণের ইচ্ছাপ্রকাশ করেন সঞ্জীব ঘোষ। আজ, মঙ্গলবার পাণ্ডুয়ার সিমলাগর কালীমন্দিরে দণ্ডি কেটে পুজো দিলেন তিনি। এদিন ভোর তিনটে নাগাদ বাড়ির পাশের পুকুরে স্নানের পর দণ্ডি কাটা শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ আট কিমি তিনি রাস্তায় দণ্ডি কেটে কালীমন্দিরে পৌঁছন। পরিবারের সকলে এদিন উপস্থিত ছিলেন। বিজেপি কর্মীর দাদা তথা স্থানীয় বিজেপি নেতা রণজিৎ ঘোষ বলেন, "তৃনমূল জেতার পরে অত্যাচার করেছিল। তারপরও বিভিন্ন সময় ভয় দেখিয়েছে, হুমকি দিয়েছে। তবে এখন সমস্যা নেই।" পাণ্ডুয়ার বিজেপি বিধায়ক তুষার মজুমদার বলেন, "বিজেপি কর্মীর প্রতিজ্ঞা পূরণ হয়েছে। আমি পার্টির ভক্তের কাছে মাথানত করি। তাঁদের পাশে যেন আমি সবসময় থাকতে পারি।"
