বছর তিনেকের প্রেম। ১৮ পেরতে না পেরতেই প্রেমিকের সঙ্গে ঘর ছেড়েছিলেন ছাত্রী। শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল সে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে গিয়েই বিপত্তি। মেয়ের অপেক্ষায় পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন মা। এদিকে বউমার সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়েছিলেন শাশুড়ি। সেখানেই দেখা গেল ছাত্রীকে নিয়ে রীতিমতো টানাটানি করলেন মা ও শাশুড়ি। যার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন ছাত্রী। গোটা ঘটনায় প্রবল শোরগোল বর্ধমান জেলার গুসকরায়।
বর্ধমানের গুসকরা শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। গুসকরা গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী সে। গুসকরা শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা সুরজ পাসোয়ান নামে ২৮ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক। ২ সপ্তাহ আগে দু'জনে বিয়ে করেন। জানা গিয়েছে, ছাত্রীর বাবা-মা এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। যদিও ছাত্রীর শাশুড়ির কথায়, "আমার বউমার বাবা, মা কাকা সবাই আমাদের বাড়িতে গিয়ে পাকা কথা বলেই বিয়ের ঠিক হয়। দুইপক্ষের মধ্যে কথাবার্তা বলে তবেই ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল।"
জানা গিয়েছে, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতেই ছিল ছাত্রী। এদিন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে যায়। গুসকরা পি পি ইন্সটিটিউশন পরীক্ষাকেন্দ্রে স্বামী পৌঁছে দিয়ে বাড়ি চলে যান। পরীক্ষা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে থেকেই ছাত্রীর মা এসে অপেক্ষা করছিলেন স্কুলের গেটের কাছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই ছাত্রী পরীক্ষা দিয়ে বেরতেই তাঁকে টানাটানি করতে শুরু করেন মা। দাবি, মায়ের সঙ্গে তাঁকে বাড়ি ফিরে যেতে হবে। কিন্তু ছাত্রীটি কিছুতেই যেতে চাইছিলেন না। এদিকে শাশুড়িও নাছোরবান্দা বউমাকে বাড়ি নিয়ে যাবেন। ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে যায় ছাত্রী। মাথায় চোট লাগে। গুসকরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল চত্বরেও দেখা যায় দুই পরিবারের মধ্যে তুমুল বচসা। ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। ছাত্রীর মায়ের কথায়, "আমি আমার মেয়ের এখনই বিয়ে দিতে চাইনি। কিন্তু ছেলের বাড়ির লোকজন বেইমানি করল। পাড়ার কয়েকজন ওদের মদত জুগিয়েছে। আমি চেয়েছিলাম মেয়েকে আরও পড়াশোনা করাব।" যদিও ছাত্রীটি এদিন জানায় সে শ্বশুরবাড়িতেই থেকে পড়াশোনা করতে চায়
