নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: ফের কি দলবদল করছেন প্রাক্তন সাংসদ সুনীল মণ্ডল? নতুন বছরের শুরুতে জোর চর্চা বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে। বুধবার জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর তাঁরা বাড়ি গিয়ে সাক্ষাৎ করেন বলে খবর। ওইদিন দুপুরে বর্ধমানের উল্লাসে সুনীল মণ্ডলের বাড়িতে আসেন হুমায়ুন কবীর। দীর্ঘক্ষণ ছিলেন তাঁর বাড়িতে। তারপরেই প্রাক্তন সাংসদের দলবদল নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
সুনীল মণ্ডল বর্তমানে তৃণমূলে রয়েছেন। অনেকেই তাঁকে 'দলবদলু' বলে কটাক্ষ করেন। কারণ, ২০১৪ সালে ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তিনি যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। ঘাসফুলের টিকিটে তিনি সাংসদ হন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে অমিত শাহর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। একুশের নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি হয়। পরে সুনীল মণ্ডল তৃণমূলে ফিরে আসেন। সুনীল নিজে দাবি করেন, তিনি তৃণমূলেই রয়েছেন। তবে তৃণমূলের সভা-সমিতিতে তাঁকে খুব একটা দেখা যায় না। এরই মাঝে নতুন দল গড়ার পর জল্পনা উসকে হুমায়ুন কবীর সাক্ষাৎ করলেন প্রাক্তন সাংসদের সঙ্গে।
বুধবার দুপুরে বর্ধমানের ভাতারে এক আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিলেন হুমায়ুন কবীর। তার আগে ফোনে সুনীল মণ্ডলের সঙ্গে কথা হয় তাঁর। বর্ধমানে আসছেন জানতে পেরে সুনীল মণ্ডল তাঁকে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। এদিন দুপুরে সুনীল মণ্ডলের বাড়িতে আসেন হুমায়ুন। প্রায় ঘণ্টা খানেক দুই নেতার কথাবার্তা হয়। হুমায়ুন কবীর বলেন, "দুজনেই একই দলে ছিলাম। দলে থাকাকালীন সুনীলবাবুর সঙ্গে অনেক কথা হত। দুজনের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। বর্ধমান এসেছি, জানতে পেরে উনি নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। তাঁর আমন্ত্রণেই সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম।"
নতুন রাজনৈতিক দলে প্রাক্তন সহকর্মীকে সঙ্গে নেওয়ার প্রশ্নে হুমায়ুন কবীর বলেন, "রাজনীতিতে সব কিছুই সম্ভব। এখানে কে কোন দলে ছিলেন, কে প্রাক্তন, কে বর্তমান সেটা বড় বিষয় নয়। সময় এলে সব প্রশ্নের উত্তর দেব।" হুমায়ুনের এই বক্তব্যে জল্পনা বেড়েছে। যদিও প্রাক্তন সংসদ সুনীল মণ্ডল বলেন, "কোনও রাজনৈতিক কথোপকথন হয়নি। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরেই সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। এটা নিয়ে জল্পনা কোনও কারণ নেই।"
