শংকর রায়, রায়গঞ্জ: বর্ষবরণের রাতে পিকনিকের মাঝে উত্তর দিনাজপুর তৃণমূলের জেলা যুব সহ সভাপতিকে খুনের অভিযোগ। রায়গঞ্জের মিলনপাড়া মোহনবাটি বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। রাজনৈতিক বিবাদে খুন নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
নব্যেন্দু ঘোষ মাত্র কয়েকদিন আগে উত্তর দিনাজপুর তৃণমূলের জেলা যুব সহ সভাপতি। স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। এক সন্তানের বাবা। সম্প্রতি মোহনবাটি বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি মিষ্টির দোকানও খুলেছিলেন তিনি। বুধবার বর্ষবরণের রাতে তাঁর দোকানের ঠিক উলটো দিকে পিকনিক চলছিল। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন বছর সাঁইত্রিশের তৃণমূল নেতা। অভিযোগ, আচমকা বেশ কয়েকজন বাইকে চড়ে ঘটনাস্থলে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগে চ্যালাকাঠ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় ওই তৃণমূল নেতাকে। ছুরি দিয়েও এলোপাথাড়ি আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ।
রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন ওই তৃণমূল নেতা। ততক্ষণে এলাকা ছাড়ে দুষ্কৃতীরা। তাঁকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, মৃত্যু হয়েছে তাঁর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়। কে বা কারা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ, ওই তৃণমূল নেতার কোনও সঙ্গীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। রায়গঞ্জ পুলিশ সুপার সানাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ বলেন,"পুলিশ মোহনবাটি এলাকার পিকনিকের স্থল এবং উল্টোদিকের দোকানের পিছন এলাকা ঘিরে রেখেছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।" নিহত তৃণমূল নেতা নব্যেন্দু সাবেক রায়গঞ্জ কলেজের ছাত্র সংসদের ছাত্রপরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, "পুলিশ সুপারকে বলেছি, খুনের ঘটনায় জড়িতদের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে।" কে বা কারা এই কাজ করল তা স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক বিবাদ নাকি ব্যবসায়িক টানাপোড়েনে খুন, তা জানা যায়নি। সম্পর্কের টানাপোড়েনের সঙ্গে প্রাণহানির কোনও যোগ রয়েছে কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
