স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে বাপেরবাড়ি চলে গিয়েছিলেন বধূ। স্ত্রীকে বুঝিয়ে দু'দিন আগে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন স্বামী। সেই ঘটনার দু'দিনের মধ্যেই বাড়ি থেকে উদ্ধার হল দম্পতির দেহ। পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রামের শিবদা গ্রামের ঘটনা। বৃহস্পতিবার রাতে জোড়া দেহ উদ্ধার হয় শিবদা গ্রাম থেকে। ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্ত্রীকে 'খুন' করে 'আত্মঘাতী' হয়েছেন স্বামী।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম সুকল মাড্ডি এবং সরস্বতী মাড্ডি। মৃত বধূর দাদা বুড়ো টুডুর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সুকল তাঁর বোনের উপর অত্যাচার করত। নেশাগ্রস্ত ছিলেন সুকল। নেশার প্রতিবাদ করাতেই সরস্বতীকে খুন করে আত্মঘাতী হয়েছেন তাঁর স্বামী বলে সন্দেহ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার রাতের বাড়িতেই সুকলের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান প্রতিবেশীরা। তাঁরা সুকলের শ্বশুরবাড়িতে খবর দেন। পাশাপাশি তাকে উদ্ধার করে গুসকরা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
জানা গিয়েছে, ওই দম্পতির দুই ছেলে এক মেয়ে। ঘটনার দিন ছেলেমেয়েদের বাইরে খেলতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন সুকল মাড্ডি। সন্তানরা বাড়ি ফিরে বাবাকে ঝুলতে দেখে প্রতিবেশীদের খবর দেয়। কিন্তু সরস্বতীকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর সরস্বতীর বাপের বাড়ির লোকজন গ্রামে গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একটি অন্ধকার ঘরের মধ্যে সরস্বতীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। ওই দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। এদিন শুক্রবার দুটি দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমানে পাঠায় গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ।
এই ঘটনায় সরস্বতীর বাপেরবাড়ির পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, লক্ষীগঞ্জ গ্রামের মেয়ে সরস্বতীর সঙ্গে প্রায় ১১ বছর আগে দেখাশোনা করে সুকলের বিয়ে হয়েছিল। দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তাঁদের। সকলেই নাবালক। অভিযোগ, রোজই মদ্যপান করে সরস্বতীর উপর অত্যাচার করত সুকল। এনিয়ে আগেই একাধিকবার অশান্তি হয়। দুই পরিবারের মধ্যে বসার পর মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সুকল তাঁর স্বভাব ত্যাগ করেনি।
