shono
Advertisement
Independence Day

বিস্মৃতির আড়ালে দুবরাজপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি, ফলকের দাবিতে সরব স্থানীয়রা

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এমন ঘটনাগুলি শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।
Published By: Kousik SinhaPosted: 05:47 PM Aug 15, 2026Updated: 05:47 PM Aug 15, 2026

স্বাধীনতার ইতিহাসে অবদান রয়েছে বীরভূমের দুবরাজপুরের। অথচ সেই ইতিহাসের দৃশ্যমান কোনও স্মারক নেই। বিশেষ করে ১৯৪২-এর আন্দোলনে দুবরাজপুর মুন্সেফ আদালতকে ঘিরে যে ঘটনা ঘটেছিল, তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আদালত চত্বর অথবা শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্মারক ফলক বসানোর দাবি উঠছে। ১৯৪২-এর আগস্টে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের আহ্বানের পর ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তেও। বীরভূম তার বাইরে ছিল না। তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন সংগঠিত হয়। সেই পর্বেই দুবরাজপুরে ঘটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এমন ঘটনাগুলি শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।

ঐতিহাসিকদের বিবরণ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে কয়েকশো আন্দোলনকারী মিছিল করে দুবরাজপুর থানার দিকে যান। পরে তাঁদের জমায়েত হয় মুন্সেফ আদালত ও ডাকঘর এলাকায়। ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে সেখানে। আদালতের কর্মীরা সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ভিতরে অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীরা আদালতে ঢুকে সরকারি নথিপত্র-সহ বিভিন্ন সামগ্রী বাইরে নিয়ে যান। বেশ কিছু নথি ও আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে দুবরাজপুরে সামরিক বাহিনী নামানো হয়েছিল বলে ইতিহাসচর্চায় উল্লেখ রয়েছে।

এই ঘটনার জেরে দুবরাজপুর ও হেতমপুরের উপর আর্থিক জরিমানা চাপানোর পাশাপাশি বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা যায়, ঘটনায় ‘দুবরাজপুর হাঙ্গামা’ নামে দায়ের হয় একটি মামলা। এই মামলায় সাজাও ঘোষণা হয়। তবে ঘটনার তারিখ নিয়ে ইতিহাসচর্চায় কিছু মতভেদ রয়েছে। সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক তথা ইতিহাসবিদ পার্থশঙ্খ মজুমদারের বক্তব্য, প্রচলিত বিবরণে ১ সেপ্টেম্বর পতাকা উত্তোলনের কথা বলা হলেও গোয়েন্দা নথিতে ২৮ সেপ্টেম্বরের উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁর দাবি, সৌরেন্দ্র নারায়ণ সেন ও শ্রীপতি পাতরের নেতৃত্বে প্রায় ৫০০ মানুষের মিছিল আদালত ও ডাকঘর এলাকায় গিয়ে জাতীয় পতাকা তুলেছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এমন ঘটনাগুলি শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, দুবরাজপুরে একটি স্মৃতিফলক বা স্মৃতিসৌধ তৈরি হলে ইতিহাস সংরক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই আন্দোলনের কথা জানতে পারবে। একই উদ্যোগ জেলার অন্যান্য স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এলাকাতেও নেওয়ার দাবি উঠেছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement