স্বাধীনতা দিবসের আগেই সুখবর পুরুলিয়ার পর্যটনে। কয়েক বছর ধরেই ঝাড়খণ্ড ছুঁয়ে থাকা জঙ্গলমহল পুরুলিয়া শৈল শহর দার্জিলিংয়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। চলতি আর্থিক বছরে পর্যটকদের যা গ্রাফ তাতে প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী এই জেলা মিলিয়ন ছুঁয়ে যাবে। তাই বনমহল পুরুলিয়ার পর্যটনের আরও প্রসারে সম্ভবত চলতি পর্যটন মরশুমেই জোড়া ট্রেন পেতে চলেছে এই জেলা। অযোধ্যা পাহাড়ের সঙ্গে শৈল শহর দার্জিলিং - কার্যত এই থিমেই পশ্চিমবঙ্গের দুই পর্যটন কেন্দ্রকে জুড়তে পুরুলিয়া-নিউ জলপাইগুড়ি ও পুরুলিয়া-দিঘা নতুন ট্রেন চালু হবে। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে দেখা করে বিভিন্ন নতুন ট্রেন ও রেল প্রকল্পে আর্থিক বরাদ্দের বিষয়ে চিঠি দেন। রেলমন্ত্রীকে দেওয়া সেই চিঠির ভিত্তিতেই ওই সাংসদ কার্যালয় সূত্রে খবর, পুরুলিয়ার পর্যটনে ওই দুই জোড়া ট্রেন মিলতে পারে সবচেয়ে আগে। এই দুটি ট্রেন মিললে বাংলার পর্যটনে বড় সুফল পাবে রাজ্য। সেই কথা মাথায় রেখেই সাংসদ জ্যোতির্ময়ের রেলমন্ত্রীর কাছে দরবার।
সম্প্রতি জেলার বলরামপুরে ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডার কনফারেন্সে সাংসদ জ্যোতির্ময় পর্যটন বিভাগের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের সাথে আলোচনা করেন পশ্চিমবঙ্গের দুই প্রান্তের দুই পাহাড়কে অর্থাৎ অযোধ্যা পাহাড় ও দার্জিলিংকে রেল যোগাযোগে যাতে জোড়া যায়। সাংসদের প্রস্তাবে ওই বৈঠকেই শিলমোহর দিয়েছিলেন পর্যটন মন্ত্রী। সাংসদ রেলমন্ত্রীকে যে নতুন ট্রেনের বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন তাতে পুরুলিয়া-দিঘা, পুরুলিয়া-নিউ জলপাইগুড়ি ছাড়াও পুরুলিয়া-বেঙ্গালুরু ও পুরুলিয়া থেকে দক্ষিণের একটি ট্রেনের দাবি রাখেন।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে দরবার পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর। নিজস্ব ছবি[/caption]
এছাড়া পুরুলিয়া-হাওড়া ভায়া আসানসোল, বর্ধমান ট্রেনের দাবি রয়েছে তাঁর। সেই সঙ্গে পুরুলিয়ার মানুষজনের চিকিৎসার জন্য যে পুরুলিয়া- ভেল্লুপুরম ট্রেন চালু হয়েছে যা সপ্তাহে তিন দিন চলে। তা ৫ দিন করার দাবি জানান সাংসদ। সেইসঙ্গে হাওড়া-পুরুলিয়া যে সুপারফাস্ট ট্রেন রয়েছে তার রেট কার্ড অর্থাৎ ভাড়া কমানোর মত গুরুত্বপূর্ণ দাবি রাখেন তিনি। আসানসোল- শিয়ালদা যে ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস রয়েছে তা আসানসোল থেকে সম্প্রসারণ করে পুরুলিয়া করতে হবে এমন দাবিও রয়েছে তাঁর। এছাড়া পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম নতুন রেলপথের ডিটেইলস প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাই ওই রেল প্রকল্পের কাজ যাতে দ্রুত শুরু করা যায় সেজন্য আর্থিক বরাদ্দের দরবার করেন তিনি। সেইসঙ্গে রেল মন্ত্রকে অনুমোদন পাওয়া পুরুলিয়া-বাঁকুড়া ভায়া হুড়া নতুন রেলপথেরও অর্থ বরাদ্দের দাবি রয়েছে সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর ওই চিঠিতে।
