shono
Advertisement
TTP

আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিকল্পনা! গ্রেপ্তার বাংলার 'তালিবান' জঙ্গি

বেঙ্গালুরুতে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতে গিয়ে তেহেরিক-ই-তালিবানে যোগ দিয়েছিল আশাফুল।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 02:36 PM Aug 15, 2026Updated: 06:58 PM Aug 15, 2026

বাংলা থেকে জঙ্গি কার্যকলাপের জাল ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। এবার তালিবানদের সঙ্গে যোগ দিয়ে পাকিস্তান বিরোধী যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছিল উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ার যুবক আশাফুল মালিক। বেঙ্গালুরু থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেখানে আশাফুল নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করত। আর তার আড়ালে তেহেরিক-ই-তালিবান জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, আফগানিস্তানে গিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের। কিন্তু তার আগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে যায় আশাফুল। ঠিক কতটা সে ছড়িয়ে জঙ্গিমূলক কাজকর্মের জাল, আর কী পরিকল্পনা ছিল, সেসব বিশদে জানতে আশাফুলের বাদুড়িয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ।

Advertisement

আশাফুল মালিক বসিরহাটের বাদুড়িয়া থানার যশাইকাটি-আটঘরা গ্রাম পঞ্চায়েতের নোয়াপাড়ার বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, ২০২৫ সাল থেকে বেঙ্গালুরুতে জিগানি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ার টাটা অ্যাডভান্স লিমিটেডে নিরাপত্তারক্ষীর কাজে যোগ দেয় বছর পঁচিশের আশাফুল মালিক। সেখানে কর্মরত অবস্থায় 'তেহেরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান' জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। বেঙ্গালুরু থেকেই অনলাইনে এই সংগঠনের একাধিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে।

আশাফুল মালিক বসিরহাটের বাদুড়িয়া থানার যশাইকাটি-আটঘরা গ্রাম পঞ্চায়েতের নোয়াপাড়ার বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, ২০২৫ সাল থেকে বেঙ্গালুরুতে জিগানি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ার টাটা অ্যাডভান্স লিমিটেডে নিরাপত্তারক্ষীর কাজে যোগ দেয় বছর পঁচিশের আশাফুল মালিক। সেখানে কর্মরত অবস্থায় 'তেহেরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান' জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। বেঙ্গালুরু থেকেই অনলাইনে এই সংগঠনের একাধিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তান সেনা যেভাবে আফগানিস্তানের নাগরিকদের উপর অবৈধভাবে আক্রমণ ও লাগাতার হামলা চালাচ্ছে এই কার্যকলাপের সঙ্গে আশাফুল যুক্ত ছিল।

এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, আফগানিস্তান যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করেছিল আশাফুল। এসবের মাঝেই কর্নাটক পুলিশের নজরে পড়ে। কর্ণাটক পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় সে স্বীকার করেছে যে পাকিস্তানের উপর তার অত্যন্ত রাগ। ভারত বিরোধী ষড়যন্ত্রে উসকানি থেকে আফগান জনগণের উপর অত্যাচারের কথা শুনে এত ক্ষুব্ধ। তাকে আরও জেরা করা হচ্ছে। রাজ্য পুলিশের এসটিএফের সহযোগিতায় শনিবার আশাফুল মালিকের বাদুড়িয়ার বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।  

আশাফুল চেয়েছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়তে। তার সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য থেকে যা বোঝা যাচ্ছে, তা সরলভাবে এমনটাই - 'শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু'। অর্থাৎ আশাফুলের নীতি ভারতের পাকবিরোধী নীতির সমতুল্য। তাকে গোয়েন্দা বিভাগের কাজে লাগানোর কথা ভাবতেই পারতেন তদন্তকারীরা। কিন্তু বিষয়টা তত সহজ নয়, বরং এধরনের জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের মগজ বেশ জটিল। আফগানিস্তান তালিবান জঙ্গি অধ্যুষিত। সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল আশাফুল। তা কি জঙ্গি প্রশিক্ষণের জন্য? এক্ষেত্রে সেই আশঙ্কাই অধিক।

আফগানিস্তানের তালিবানরা আসলে ভারতীয় উপমহাদেশে শরিয়তি আইন লাগু করতে চায় এবং তার জন্য নানা দেশের আনাচকানাচে জাল বিস্তার করছে। ইরাক, সিরিয়ার মতো দেশগুলিতে ইতিমধ্যে বড় নেটওয়ার্ক গড়ে ফেলেছে। এখন আশাফুল যদি এদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকে, তবে দেশে ফিরে তার প্রয়োগ ঘটাতেই পারে। তেমনটা হলে তা দেশের আভ্যন্তরীণ সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। আশাফুল যে বন্দুক এখন পাকিস্তানের দিকে তাক করতে চায়, সেটাই একদিন ঘুরে ভারত অভিমুখী হতেই পারে। তাই তাকে সুরক্ষার কাজে ব্যবহার করার কথা এখনই ভাবতে পারছেন না তদন্তকারীরা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement