মুর্শিদাবাদ দুর্ঘটনার তদন্তে বিশেষ কমিটি গঠন করল রেল। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে ভারতীয় রেল। আহতদের দেওয়া হবে আড়াই লক্ষ টাকা। রাজ্যের তরফে মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ।
শুক্রবার সকালে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়েছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণ। লেভেল ক্রসিং খোলা থাকায় দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রেন ধাক্কা দিয়েছে পুলকার ও সাইকেল আরোহীকে। মৃত্যু হয়েছে মোট ৩ জনের। মৃতদের নাম জেসিকা ইয়াসমিন (৯), ফারহানা সুলতানা (৬), জামশেদ আলি (৬৫)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত এলাকা। গেটম্যানের উদাসীনতায় এই ঘটনা বলেই দাবি স্থানীয়দের। সেই কারণেই কেবিনে তাঁকে আটকে তালাবন্ধ করে দেয় উত্তেজিত জনতা। তাঁদের সাফ দাবি, কড়া শাস্তি দিতে হবে। পরবর্তীকালে বহরমপুর থানার পুলিশ গিয়ে গ্রেপ্তার করে গেটম্যানকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলের আধিকারিকরা। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে শুক্রবার সকালে যখন মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে দুর্ঘটনা ঘটে, তখন সিগন্যালিং ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না। সিগন্যাল মেনেই এসেছিল নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার। ইন্টারলকিং গেট পরিচালনায় নিযুক্ত গেটম্যান ও সুপারভাইজারের গাফিলতিতেই এই দুর্ঘটনা। সেই কারণে তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। বহরমপুর থানার পুলিশ গেটম্য়ানকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি তদন্তের জন্য ১০ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে রেল।
মুর্শিদাবাদ দুর্ঘটনায় উত্তপ্ত এলাকা। বিক্ষোভে শামিল স্থানীয়রা। ছবি-কৌশিক ঘোষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মদ-গাঁজা খেয়ে দিনভর নেশাগ্রস্ত হয়ে থাকতেন গেটম্যান। সেই অবস্থাতেই কাজও করতেন। ফলে অধিকাংশ দিনই গেট বন্ধ করার পর তা খুলতে ভুলে যেতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেট বন্ধ হয়ে থাকত। প্রবল সমস্যায় পড়তে হত আমজনতাকে। একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। এদিন গ্রেপ্তারির সময়ে গেটম্যানের শরীরিভাষাতেই মোটের উপর স্পষ্ট এদিনও নেশাগ্রস্তই ছিলেন ধৃত। তাকে গেট খোলা রাখা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হলেও টুঁ শব্দটিও করেননি।
