shono
Advertisement
India-Bangladesh Border

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কড়াকড়ি, ঘুরপথে নেপাল হয়ে বাংলায় অনুপ্রবেশ! চলছে নজরদারি

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়তেই কি এদেশে ঢুকতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা নেপাল সীমান্ত বেছে নিতে শুরু করেছে? সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর বিভিন্ন মহলে সেই প্রশ্ন উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ভারতের 'চিকেনস নেক' ও সংলগ্ন এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটাতে কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে।
Published By: Suhrid DasPosted: 08:01 PM Jun 16, 2026Updated: 08:53 PM Jun 16, 2026

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে (India-Bangladesh Border) নজরদারি বাড়তেই কি এদেশে ঢুকতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা নেপাল সীমান্ত বেছে নিতে শুরু করেছে? সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর বিভিন্ন মহলে সেই প্রশ্ন উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ভারতের 'চিকেনস নেক' ও সংলগ্ন এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটাতে কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত কাঁটাতারে ঘেরা। পাক সীমান্তে অনুপ্রবেশ কার্যত অসম্ভব। সেক্ষেত্রে উন্মুক্ত নেপাল সীমান্তকে কাজে লাগানোর অভিযোগ উঠছে। আইএসআই ছাড়াও হিজবুল মুজাহিদিন-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠন ওই রুট ব্যবহার করে অনুপ্রবেশ বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে বলেও গোয়েন্দা সূত্রের খবর।

Advertisement

সোমবার ভারত-নেপাল পানিট্যাঙ্কি সীমান্তে নন্দন দাস নামে বাংলাদেশের মাদারিপুর জেলার উমেদপুরের এক বাসিন্দাকে এসএসবির জওয়ানরা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত বাংলাদেশি ২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে নেপালে পৌঁছয়। নেপাল থেকে সার্বিয়ায় কাজের জন্য দালালের চক্রে পড়ে প্রতারিত হন। এরপর নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে পানিট্যাঙ্কিতে ধরা পড়ে। এই সেই পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত যেখান থেকে ৮ জুন স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ ওরফে জাহাঙ্গির খানকে গ্রেপ্তার করে বেঙ্গল এসটিএফ। নেপাল যাওয়ার এই রাস্তাকেই ‘সেফ প্যাসেজ’ বলে মনে করে অপরাধীরা। মানব পাচার থেকে শুরু করে আত্মগোপন করার পন্থা— সব কিছুরই অবাধ বিচরণ এই পথেই। 

সম্প্রতি এই সীমান্তে গ্রেপ্তার হয়েছে দুই বাংলাদেশি-সহ এক এজেন্ট। গোয়েন্দারা মনে করছেন, ভারতের সঙ্গে নেপালের ১,৭৫১ কিলোমিটার উন্মুক্ত সীমান্তের সুযোগ নিচ্ছে পাকিস্তান। নেপালকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশিদের ভারতে অনুপ্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে।

সম্প্রতি এই সীমান্তে গ্রেপ্তার হয়েছে দুই বাংলাদেশি-সহ এক এজেন্ট। গোয়েন্দারা মনে করছেন, ভারতের সঙ্গে নেপালের ১,৭৫১ কিলোমিটার উন্মুক্ত সীমান্তের সুযোগ নিচ্ছে পাকিস্তান। নেপালকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশিদের ভারতে অনুপ্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে। সম্প্রতি পানিট্যাঙ্কি ও খড়িবাড়ির মতো সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারত প্রবেশের সময় বাংলাদেশি নাগরিক এবং থাইল্যান্ডের তরুণী সহ একাধিক ব্যক্তিকে এসএসবি ও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ১২ মে নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের সময় এসএসবি চার জনকে আটক করেছে।

ধৃতদের জেরা করে গোয়েন্দারা জেনেছে, বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর বিহারের কিষাণগঞ্জ, আরারিয়া, পূর্ণিয়া ও কাটিহার অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ চলেছে। ঘটনাটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নজরে আসতে এসএসবি এবং বিএসএফ নজরদারি বাড়িয়েছে। ভারত-নেপাল সীমান্ত সড়ক প্রকল্পের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি করা হয়েছে। এই সীমান্ত এলাকায় গ্রেপ্তার হয়েছে একাধিক চিনা নাগরিক। গোয়েন্দারা জেনেছেন, ভারত-নেপাল সীমান্তে আইএসআই ছাড়াও সক্রিয় হিজবুল মুজাহিদিন-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠন। জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করে অনুপ্রবেশ ঘটানো ওই জঙ্গিদের লক্ষ্য। 

ধৃতদের জেরা করে গোয়েন্দারা জেনেছে, বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর বিহারের কিষাণগঞ্জ, আরারিয়া, পূর্ণিয়া ও কাটিহার অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ চলেছে। ঘটনাটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নজরে আসতে এসএসবি এবং বিএসএফ নজরদারি বাড়িয়েছে।

পাক জঙ্গিরা নেপালের মধ্য দিয়ে অনুপ্রবেশের যে দুটি পথ ব্যবহার করছে, তার একটি বিহারের পূর্ব চম্পারণ জেলার রাক্সাউল এবং অন্যটি শিলিগুড়ি সংলগ্ন পানিট্যাঙ্কি। আরও অন্য পথ রয়েছে, যেখান দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ ঘটানোর চেষ্টা চলছে। সেগুলো হলো বাহরাইচ, গোন্ডা এবং বলরামপুর। ভারত-নেপাল সীমান্তে দায়িত্বে থাকা এসএসবি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে 'হাই এলার্ট' জারি করেছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement