বর্গির হানা বললেও কম বলা হবে। 'লুপার ক্যাটার পিলার' নামে সবুজখেকো পোকার হানা। বিঘার পর বিঘা চা বাগানে দু'টি পাতা একটি কুড়ি উধাও হতে বসেছে। কঙ্কালসার চেহারা দেখে মনেই হবে না, সেটি চা বাগান। বড় চা বাগানের পাশাপাশি এমন দুর্যোগের কবলে পড়ে দিশাহারা হয়েছেন তরাই এবং জলপাইগুড়ি জেলার কয়েক হাজার ক্ষুদ্র চা চাষি। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের আশঙ্কা, একে অনাবৃষ্টি। তার উপর লুপার ক্যাটার পিলারের হামলার জেরে চা পাতা উৎপাদন কমতে পারে।
বিঘার পর বিঘা চা বাগানের শুধু যে পাতা খেয়ে সাবার করেছে সেটাই নয়। গাছের ডাটা চিবিয়ে শেষ করেছে লুপার ক্যাটার পিলার। চা গবেষণা কেন্দ্রের গবেষকদের মতে তাপমাত্রার দ্রুত ওঠা-নামার কারণে বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ পেয়েছে লুপার। একদিকে অনাবৃষ্টি, অন্যদিকে দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা। এই আবহাওয়ার জেরে ঝড়ের গতিতে বংশবিস্তার করে একের পর এক বাগানে ছড়িয়ে সর্বনাশ ডেকেছে সবুজখেকো পোকা। ফলে চা পাতা উৎপাদন অনেকটাই মার খাওয়ার আশঙ্কা। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় গোপাল চক্রবর্তী বলেন, "ক্ষুদ্র চা চাষিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়েছে। কাঁচা পাতার উৎপাদন অনেকটাই কমবে।"
চা গাছে এভাবে জড়িয়ে পোকা। ছবি-সংগৃহীত
চা চাষিরা জানিয়েছেন, অক্টোবর মাস থেকে উত্তরের সমতলে ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি নেই। ক্রমশ বাড়ছে তাপমাত্রা। ফলে লালপোকা, চা মশা, লুপার ক্যাটার পিলারের উপদ্রব বেড়েছে। সবচেয়ে ক্ষতি করেছে লুপার। রাতারাতি বিঘা পর বিঘা চা বাগানের সবুজ পাতা উধাও হয়েছে। কীটনাশক স্প্রে করেও পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব হয়নি। 'ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফোরাম অব স্মল টি গ্রোয়ার্স'-এর চেয়ারম্যান রজত কার্জি বলেন, "এবার ফার্স্ট ফ্লাসেই মার। ওষুধের খরচ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি আরও কিছুদিন চললে সর্বনাশ হয়ে যাবে।" চা চাষিরা জানিয়েছেন, লুপার ঠেকাতে কীটনাশক ব্যবহার করেও লাভ হচ্ছে না।
ময়নাগুড়ির রামশাই এলাকার চা চাষি মানিক সরাকার বলেন, "ওষুধ কিনতে দামের জন্য মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কাজ হচ্ছে না।" কেন এমনটা হল? চা গবেষণা কেন্দ্রের গবেষকরা জানিয়েছেন, চাষিরা সবসময় নিয়ম মেনে কীটনাশক প্রয়োগ করেন, সেটা নয়। চটজলদি কাজের আশায় অনেক সময় নির্ধারিত মাপের বেশি কীটনাশক দিয়ে থাকেন। এর ফলে পোকামাকড়ের প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। পরে সাধারণ কীটনাশকে কাজ হয় না। সেটাই এখানে হয়ে থাকতে পারে।
