রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের ফুলতলা মোড়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন আরএসএস নেতা কিংশুক সরকার ও হিন্দুত্ববাদী দলের নেতা বাবাই চক্রবর্তী। পুলিশ সূত্রে খবর, কিংশুক হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁকে এলাকায় ওয়াকিটকি হাতে ঘুরে বেরাতে দেখা গিয়েছে। শনিবারই ধৃতদের জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। জঙ্গিপুরের ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।
শুক্রবার বিকেলে জঙ্গিপুরে রামনবমীর মিছিলে হামলা-পালটা হামলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। ইটবৃষ্টি, লাঠি-বাঁশ হাতে সংঘর্ষ হয়। পাশাপাশি এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। গুরুতর জখম অবস্থায় ৪০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে। গতকালের এই ঘটনার পরে আজও এলাকা থমথমে রয়েছে। এলাকায় ব়্যাফ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবারের ঘটনার পর জঙ্গিপুরে ভারতীয় ন্য়ায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি হয়েছে। এর ফলে কোনও স্থানে ৫ জনের বেশি জমায়েত করতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেল ৫টা নাগাদ জঙ্গিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রঘুনাথগঞ্জের ম্যাকেঞ্জি পার্ক থেকে রামনবমীর একটি মিছিল শুরু হয়েছিল। মিছিলটি ফুলতলা মোড়ে পৌঁছতেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে এলাকায় উপস্থিত পুলিশ কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খান। পরে ঘটনাস্থলে আসে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এলাকায় বর্তমানে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অশান্তি যাতে আর ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। জঙ্গিপুরে ১৬৩ ধারা জারির পাশাপাশি গোটা মুর্শিদাবাদজুড়েই পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছে।
