আগামী ২৪ তারিখ তাঁর ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। বাড়ি তৈরি হচ্ছে নিজের গ্রামে। ছুটি নিয়ে বাড়ি এলে ছাদ ঢালাইয়ের কথা ছিল। কিন্তু সব কিছু কথা পরিকল্পনাতেই থেকে গেল। জম্মু-কাশ্মীরে পথ দুর্ঘটনা কবলে পড়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর গাড়ি। ওই দুর্ঘটনাতে প্রাণ হারালেন ভারতীয় সেনা জওয়ান ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা সমীরণ সিং। মৃত্যুর সংবাদ বাড়িতে পৌঁছতেই কান্নার রোল উঠেলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। কফিনবন্দি হয়ে জাতীয় পতাকায় মুড়ে মৃতদেহ আনা হচ্ছে গ্রামের বাড়িতে। বছর ২৮ বয়সী সেনা জওয়ান সমীরণ সিংয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে যেতেই শোকের ছায়া এলাকায়।
জানা গিয়েছে, সমীরণ সিং ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রেভো কোম্পানির ১৬৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ান ছিলেন। বৃহস্পতিবার ডোডা জেলার খনি ভগরবাত এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি ক্যাম্পের দিকে ফেরার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিপরীত দিক থেকে আসা আর একটি গাড়িকে পাশ কাটাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেনাবাহিনীর গাড়িটি প্রায় ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ১০ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়, গুরুতর আহত হন আরও ৬ জন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলার সমীরণ সিং। দুঃসংবাদ গ্রামে পৌঁছতেই কুচলাদাঁড়ি ও আশপাশের এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সমীরণ সিং ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। বাবা-মাকে সুখে রাখাই ছিল তাঁর জীবনের লক্ষ্য। সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি বাবা-মার জন্য নতুন বাড়ি তৈরি করছিলেন। একতলায় বাবা-মা থাকেন। নিজে আগামী দিনে থাকবেন বলে বাড়িতে দোতলা তৈরির কাজও শুরু হয়েছিল। পরিবার সূত্রে খবর, ২৪ তারিখ ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। ছুটিতে তাঁর উপস্থিতিতে বাড়ির দোতলার ছাদ ঢালাই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হল না।
পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শুক্রবারই সমীরণ সিংয়ের মরদেহ বাড়িতে ফেরার কথা। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এখনও বিমানযোগে দেহ পাঠানো সম্ভব হয়নি। জাতীয় পতাকায় মুড়ে ছেলে বাড়ি ফিরবে। সেকথা ভেবেই ডুকরে কেঁদে উঠছেন বাবা-মা। প্রিয়জনের দেহ ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন বআত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীরা। নিহত জওয়ানের বাবা বীরেন্দ্র সিং, ছোট ভাই দিব্যেন্দু সিং বলেন, "ছোটবেলা থেকেই সে বলত দেশের জন্য কিছু করবে। সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে চায়। সেই মতো নিজেকে তৈরি করেছিল। ২৪ তারিখ বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।" সাঁকরাইল ব্লকের বিডিও অভিষেক ঘোষ বলেন, "কাশ্মীরের আবহাওয়া খারাপ থাকার জন্য বিকেল পর্যন্ত দেহ নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। আমরা খবরা খবর রাখছি।"
