সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: ভোটের প্রচারে নেই আদিবাসী কুড়মি সমাজ। প্রায় সমগ্র বাংলা যখন পঞ্চায়েত নির্বাচনে ডুবে তখন আদিবাসী কুড়মি সমাজ কোন রাজনৈতিক দলের ঝান্ডা হাতে নেবে না। বের হবে না কোন রাজনৈতিক দলের প্রচারে। শুধু তাই নয়, তাঁদের জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা ঝুমুর গানও তাঁরা ভোটের ময়দানে গাইবেন না। আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা (প্রধান নেতা) অজিত প্রসাদ মাহাতো জঙ্গলমহলের চার জেলা পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে বৈঠক করে তা জানিয়ে দিয়েছেন। যদিও কুড়মি সমাজের এই সংগঠনটি গত ২৮ অক্টোবর দক্ষিণ বাঁকুড়ায় তাদের রাজ্য সম্মেলনে বৈঠক করে লিখিত সিদ্ধান্ত নেয়, তারা কোন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকবে না। তবে এই রাজ্য সম্মেলনের আগে গত ২৮ মে পুরুলিয়ার বোরো-র আকরোতে সংগঠনের জেলা কমিটির কর্মসূচি তে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগ না রাখার কথা ঘোষনা করেন তাদের মূল মানতা অজিত প্রসাদ মাহাতো। তিনি বলেন,“আমরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আগামী পাঁচ বছর আমরা কোন পার্টি করব না। কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকব না। সেই সিদ্ধান্ত কে মাথায় রেখেই আমাদের কোন নেতা-কর্মী কোন রাজনৈতিক দলের ভোট প্রচারে যাবেন না। কোন দলের ঝান্ডা হাতে নেবেন না। তাদের ভোট প্রচারে কেউ গাইবেন না ঝুমুর গান। তবে গোপনে ভোট দেবেন।” নিজেদের আদিবাসী তালিকাভুক্ত করার দাবিতে আদিবাসী কুড়মি সমাজ দীর্ঘদিন ধরে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম সহ ঝাড়খন্ড, ওড়িশায় আন্দোলন করছে।
[মহিলাদের সঙ্গে চাটাই পেতে ‘চায়ে পে চর্চা’, জনসংযোগে নয়া কৌশল তৃণমূলের]
ইতিমধ্যেই তারা যে সব আন্দোলন কর্মসূচি নিয়েছে তাতে রাজ্যের এই পিছিয়ে পড়া জনজাতি কুড়মিদের মন জয় করে নিয়েছে। আদিবাসী তালিকাভুক্ত করার দাবিতে বারো ঘন্টা রেল অবরোধ, বারো ঘন্টা ধরে ডহর ছেঁকা, জিগিড় জিটা গবচনের কর্মসূচি নেয়। তাছাড়া সামাজিক কাজ হিসাবে সম্প্রতি পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো সদর হাসপাতালে রক্তদান কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক ছাপ ফেলে। তারা এভাবে ভোট থেকে কার্যত সরে আসায় জঙ্গলমহলে সব রাজনৈতিক দলগুলিই বিপাকে পড়েছে। কারন এই চার জেলায় আদিবাসী কুড়মি সমাজের সংগঠন বেশ শক্তিশালী। এদিকে এই কুড়মিদের নিয়ে রাজ্যের নৃতাত্বিক রিপোর্টে ত্রুটি থাকায় আরজিআই (রেজিস্টার্ড জেনারেল অফ ইন্ডিয়া) আদিবাসী তালিকা করার প্রস্তাব ফিরিয়ে নতুন করে রিপোর্ট চেয়েছে। সেই সঠিক রিপোর্ট এবার রাজ্যের কাছে পেশ করবে আদিবাসী কুড়মি সমাজ। তারপর তা রাজ্য আরজিআইয়ের কাছে পাঠাবে বলে ওই সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার এই জনজাতিকে আদিবাসী তালিকাভুক্ত করার দাবিতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু তারপরেও ভোট নিয়ে আদিবাসী কুড়মি সমাজের এই অবস্থান শাসকদলকে জঙ্গলমহলে চাপে ফেলে দিয়েছে।
[ভোটের লড়াইয়ে নেই, দেওয়াল লিখনে ব্লক সভাপতির নামই ভরসা কালনার তৃণমূল প্রার্থীদের]
The post ঢের হয়েছে অবহেলা, পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে নেই আদিবাসী কুড়মি সমাজ appeared first on Sangbad Pratidin.
