shono
Advertisement
Digha

দিঘায় এবার ডাইনোসর! তৈরি হচ্ছে আস্ত জুরাসিক পার্ক, কী কী থাকবে সেখানে?

দিঘা বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্যে সমুদ্র ও জগন্নাথ মন্দিরের পাশাপাশি অপেক্ষা করছে কোটি কোটি বছর আগের বিস্ময়কর পৃথিবীর খন্ডচিত্র।
Published By: Kousik SinhaPosted: 09:31 PM Jun 17, 2026Updated: 09:31 PM Jun 17, 2026

গত কয়েকদিন আগেই দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পর্যটক টানতে নতুন রূপে সৈকত শহরকে সাজানোর বার্তা দেন। এরপরেই দিঘার অন্যতম আকর্ষণ জুরাসিক পার্ক নতুন রূপে ফিরতে চলেছে। যদিও দীর্ঘসময় ধরে সায়েন্স সিটিতে এই পার্ক বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এর ফলে ডাইনোসরের বিস্ময়কর জগতে ভ্রমণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন দর্শকরা। সেদিকে নজর রেখেই পার্কটিকে আরও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আকর্ষণীয় করে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তথ্যবহুল ও দর্শকবান্ধব করে তোলার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দিঘা বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্যে সমুদ্র ও জগন্নাথ মন্দিরের পাশাপাশি অপেক্ষা করছে কোটি কোটি বছর আগের বিস্ময়কর পৃথিবীর খন্ডচিত্র। বর্তমানে পার্কের বিভিন্ন অংশে সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

Advertisement

অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক রিলেশন এগজিকিউটিভ কুসুমিতা চক্রবর্তী বলেন, পার্কটি ফের পর্যটকদের কাছে আগের মত আকর্ষণীয় এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে জুরাসিক পার্ক নামক এই বিনোদন পার্কটি চালু হয়। দিঘা বিজ্ঞান কেন্দ্রের পেছনে একেবারে গাছ দিয়ে ঘেরা অংশে এই পার্কটি চালু হয়। সেখানে ডাইনোসরের উৎপত্তি, তার বিবর্তন, জীবনযাত্রা, বিলুপ্তি-পর্যায়ক্রমে সবকিছুই অভিনব লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করত। খুব অল্পদিনেই খুবই আকর্ষনীয় হয়ে উঠেছিল পর্যটকদের কাছে। তবে বছরদশেক আগে কিছু যান্ত্রিক কারনে পার্কটি বন্ধ হয়ে যায়। পূর্বের সেই জনপ্রিয়তাকে নতুন মাত্রা দিতে এবার পার্কটিকে আধুনিকীকরণের পথে এগিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

ওই সময় পার্কটিতে ডাইনোসর যে পরিবেশের মধ্যে ঘোরাফেরা করে, তার উপযোগী খেজুর থেকে শুরু করে বেশকিছু কৃত্রিম গাছ বসানো হয়েছিল। লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের বিশেষ পদ্ধতিতে ডাইনোসরের ছুটে বেড়ানো এবং তার গগনবিদারী ডাক শুনতে পেতেন দর্শকরা। পর্যটকরা যাতে ডাইনোসর সম্পর্কে বিশদে জানতে পারেন, ওয়াকথ্রুর দেওয়ালে বিভিন্ন চিত্রসহ তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু, পার্কটি বন্ধ হওয়ার পর দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় পড়েছিল। ডাইনোসরের মডেলগুলি পড়ে পড়ে নষ্ট হতে বসেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ডাইনোসরের বিদ্যমান মডেলগুলি নতুনভাবে পরিচর্যা ও পুনর্গঠনের পাশাপাশি দর্শকদের জন্য আরও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি এবং লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর বিস্ময়কর অধ্যায়কে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা হবে। পার্কে থ্রি-ডি স্ক্রিন বসানো হবে। সেই স্ক্রিনে ডাইনোসরের উৎপত্তি, জীবনযাত্রা, বিবর্তন, বিলুপ্তি সবই ফুটে উঠবে। আগে ছিল মুভিং ডাইনোসর। এবার আর তা নড়াচড়া করবে না। প্রত্যেকটি ডাইনোসরের গায়ে সুইচ থাকবে। দর্শকরা সুইচ টিপে সেই প্রজাতির ডাইনোসরের সম্পর্কে জানতে পারবেন। দর্শকদের যাতায়াতের জন্য রাস্তা তৈরি হয়েছে। দু’পাশে বসছে রেলিং। পর্যটকরা যেদিক দিয়ে পার্কে পৌঁছবেন, সেই ওয়াকথ্রু তৈরির কাজও চলছে দ্রুতগতিতে।

ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীন রাষ্ট্রীয় সংগ্রহালয় পরিষদের পরিচালনায় সায়েন্স সেন্টারটি পূর্ব ভারতের জনপ্রিয় বিজ্ঞানকেন্দ্র। এখানে লাইফ সায়েন্স, ফান সায়েন্স আর রিফ্লেকশন-তিনটি বিভাগে গ্যালারি রয়েছে। প্রতিটিতেই বহু রকমের আইটেম রয়েছে। রয়েছে স্পেস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টার। রয়েছে নানা গাছগাছালি এবং বিজ্ঞান সহায়ক আইটেমে সমৃদ্ধ সাজানো-গোছানো সায়েন্স পার্ক। নজর কাড়ে বাটারফ্লাই গার্ডেন ও ভেষজ উদ্যান। রয়েছে জিম পার্কও। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পর্যটক, ছাত্রছাত্রী, বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ আসেন বিজ্ঞানকে কাছ থেকে জানা ও অনুভব করার উদ্দেশ্যে। সায়েন্স সেন্টারের কিউরেটর হ্যামলেট গুড়িয়া বলেন, উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে পার্কটিকে নতুন আঙ্গিকে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত হতে চলা এই পার্কটি বিজ্ঞান ও কল্পনার এক অনন্য মেলবন্ধনের অভিজ্ঞতা উপহার দেবে। অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক রিলেশন এগজিকিউটিভ কুসুমিতা চক্রবর্তী বলেন, পার্কটি ফের পর্যটকদের কাছে আগের মত আকর্ষণীয় এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement