ধীমান রায়, কাটোয়া: তিনি বিদ্যার দেবী। তাঁর পুজোয় মাতে পড়ুয়ারা। অথচ শিক্ষার সঙ্গে যাদের তথাকথিত সরাসরি যোগ নেই তারাই পুজোকে কেন্দ্রকে করে গণ্ডগোলে জড়ালেন। গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তাল হল পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম।
[লাগাতার হিংসার জেরে অপসারিত বাসন্তীর ওসি, দায়িত্বে আইসি]
সরস্বতী পুজোর বিসর্জনের শোভাযাত্রার সময় দুই পাড়ার প্রতিমা মুখোমুখি যেতেই সংঘর্ষ বাধে উদ্যোক্তাদের মধ্যে। ঘটনাটি ঘটে কেতুগ্রামের কেঁওগুড়ি গ্রামে। সংঘর্ষের জেরে পুড়িয়ে দেওয়া হয় একটি গোয়ালঘর ও দু’টি বাড়ি। আগুনে পুড়ে মারা যায় ৩ টি ভেড়া। অগ্নিদগ্ধ আরও ১০ টি ভেড়া ও ২ টি গরু। সংঘর্ষে আহত হন ৬ জন গ্রামবাসীও। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে। উত্তেজনা থাকায় এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কেতুগ্রামের সীতাহাটি পঞ্চায়েতের কেঁওগুড়ি গ্রামের পশ্চিম দাসপাড়ায় কাছাকাছি দু’টি জায়গায় সরস্বতী পুজো হচ্ছিল। একটি পুজোর উদ্যোক্তা সীতাহাটি পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য সিপিএমের নেতা রাজকুমার দাস। অপর কমিটির কর্মকর্তা প্রতিবেশী বাবুলাল দাস। বুধবার রাতে দু’টি কমিটিই প্রতিমা নিরঞ্জন করছিল। সন্ধ্যা নাগাদ নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা বের হয়। তার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় উত্তেজনা। প্রথমে একপ্রস্থ সংঘর্ষ বাধে। তারপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
[বৃদ্ধার কাতর আর্তিতে সাড়া, বিলাসীর চিকিৎসার ভার নিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর]
বাবুলাল দাসের অভিযোগ, রাজকুমার দাস রাজনৈতিক হিংসা থেকে তাঁদের উপর প্রথম আক্রমণ করে। তার পর তাঁর গোয়ালে গিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। বাড়ির মেয়েরা বাধা দিতে গেলে মারধর করে। জানা গিয়েছে, বাবুলালের বাড়িতে একদল উত্তেজিত গ্রামবাসী প্রথমে আগুন লাগিয়ে দেয়। তারপর ওই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের দু’টি বাড়ির চালে। পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায় মতিলাল দাসও পার দাস নামে দু’জনের বাড়ি। এরপর পুলিশে প্রথম খবর যায়। তারপর কাটোয়া থেকে দমকলবাহিনী গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কেতুগ্রাম থানার আইসি বাসুদেব সরকার জানিয়েছেন, ওই ঘটনার জেরে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়নি।
ছবি: জয়ন্ত দাস
The post সরস্বতী পুজোর বিসর্জন ঘিরে উত্তাল কেতুগ্রাম, বাড়ি ভাঙচুর-আগুন appeared first on Sangbad Pratidin.
