ধীমান রায়, কাটোয়া: ছোট থেকেই অভিন্ন হৃদয় দুই বন্ধু ছিলেন তাঁরা। চোখের সামনে বন্ধুর বাইকে ধাক্কা লাগে। মৃত্যুও হয় তাঁর। বন্ধুবিয়োগের সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি অপরজন। বন্ধুর শোকে আকুল হয়ে আত্মঘাতী আরেক বন্ধু। পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট থানার ষাঁড়ি গ্রামে রবিবার সকালে ঘরের মধ্যে গলায় গামছার ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার হয় তাঁর দেহ।
আত্মঘাতী ওই যুবকের নাম তীর্থ ঘোষ (৩২)। ষাঁড়ি গ্রামের বাসিন্দা তীর্থ কৃষক পরিবারের সন্তান। দুই ভাইয়ের মধ্যে তীর্থ ছোট। দোতলা বাড়ির নিচতলায় একটি জুতোর দোকান চালাতেন। তাঁর দাদা পার্থ ট্রাক্টর ভাড়া দেন। বাবা কাশীনাথ ঘোষ চাষ করেন। মা অনিমাদেবী গৃহবধূ। তীর্থদের কয়েকটি বাড়ি পরেই গ্রামবাসী পাঁচুগোপাল নাগের বাড়ি। পাঁচুগোপালবাবু ও লক্ষীদেবীর পাঁচ মেয়ের পর একমাত্র ছেলে গৌড়হরি। গৌড়হরি ও তীর্থ ছোট থেকেই ছিলেন হরিহর আত্মা দুই বন্ধু। গত ১৩ মার্চ ষাঁড়ি গ্রামের মোড়ের কাছে গৌড়হরিকে বেপরোয়া একটি বাইক সজোরে ধাক্কা দেয়। ওইদিন এলাকায় গ্রাম্যমেলা ছিল। গৌড় ও তীর্থ দুই বন্ধু মিলে মেলায় গিয়েছিলেন। রাত তখন নটা। দুই বন্ধু রাস্তা পারাপারের জন্য এক পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তখনই বেপরোয়া গতিতে যাওয়া একটি বাইক সজোরে ধাক্কা দেয় গৌড়কে। অল্পের জন্য রক্ষা পান তীর্থ।
[আরও পড়ুন: লোকসভা ভোটের মুখে বাড়িতে CBI তল্লাশি, কমিশনে নালিশ মহুয়ার]
ওদিন রাতেই জখম গৌড়হরিকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার পর তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। গত মঙ্গলবার চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু হয় গৌড়ের। তীর্থর দাদা পার্থ বলেন, “গৌড়ের দুর্ঘটনার পর থেকেই ভাই তার সঙ্গ ছাড়েনি। টানা হাসপাতালে ছিল। ভাইকে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বারবার বলার পরেও ওকে তখন নিয়ে আসতে পারা যায়নি। এর পর গৌড় মারা যাওয়ার পরে তার মৃতদেহ দাহ করে আসার পর থেকেই তীর্থ খাওয়াদাওয়া একপ্রকার বন্ধ করে দেয়। ঘর থেকে বেরতে চাইছিল না। ওকে অনেক বোঝানোর পর ভাই আর স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারল না। এমনকি গৌড়ের বাবাও আমার ভাইকে অনেক সান্ত্বনা দিয়েছেন। তাতেও বুঝল না।” ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।
