ভূমিকম্পে ফের কাঁপল ইন্দোনেশিয়া। মঙ্গলবার সকালে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে রিখটার স্কেলে ৬.৭ মাত্রার কম্পন হয়েছে। কম্পনের উৎসস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। যদিও ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত সুনামি সতর্কতা জারি করেনি। উল্লেখ্য, অতীতেও একাধিকবার ভয়ংকর ভূমিকম্পের সাক্ষী থেকেছে দ্বীপরাষ্ট্রটি। ২০২২ সালে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন কম্পনে।
ইন্দোনেশিয়ার জিওফিজিক্স সংস্থা বিএমকেজি সূত্রে জানা গিয়েছে, পালুর থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে কম্পনের উৎসস্থল। বেশ শক্তিশালী কম্পন হলেও এখনই সুনামি সতর্কতা জারি করার কথা ভাবছেন না ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষ। তবে কম্পনের এলাকাগুলিতে নজর রাখা হচ্ছে। আপাতত কম্পনের জেরে ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে প্রথম কম্পনের মাত্রা যেহেতু অনেকটাই বেশি ছিল, ফলে একাধিক আফটার শকের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। সেদিকেও নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ।
ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনা ইন্দোনেশিয়ায় অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালে রিখটার স্কেলে ৫.৬ মাত্রায় কেঁপে ওঠে ইন্দোনেশিয়ার সিয়ানজুর। তারপরের দিন প্রতিবেশী সলোমন আইল্যান্ডেও কম্পন অনূভূত হয়। জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত ২৬৮ জনের মৃত্যু হয় সেদেশে। এমনকি স্কুলের নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও অতিরিক্ত সময় নিয়ে পড়াশোনা করা খুদেদের উপর ভেঙে পড়ে আস্ত স্কুল। বহু শিশুর মৃত্যু হয় কম্পনের জেরে।
গতবছরও মাত্র ২ সপ্তাহের ব্যবধানে জোরালো কম্পন অনুভূত হয় দ্বীপরাষ্ট্রের বান্দা সাগরে। আসলে ভূমিকম্পের দিক থেকে অত্যন্ত সক্রিয় প্রশান্ত মহাসাগরের “রিং অফ ফায়ার” এর পাশে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া। এর জটিল টেকটোনিক বিন্যাসের কারণে প্রায়শই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে এখানে। বিশেষ করে বান্দা সাগর অঞ্চলটি অস্ট্রেলিয়ান এবং সুন্দা প্লেট সহ একাধিক টেকটোনিক প্লেটের কেন্দ্রস্থল। সেকারণেই একাধিকবার কেঁপে ওঠে ইন্দোনেশিয়া।
