রঞ্জন মহাপাত্র, কাঁথি: রহস্যজনকভাবে কাঁথিতে মৃত্যু হল বেহালার যুবক রাহুল সাউ (২০)-র। দিঘা স্টেশনের জিআরপি এই মৃত্যুকে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু বললেও তা মানতে নারাজ পরিবার। ৭ এপ্রিল দিঘা রেল স্টেশনের অদূরে রেললাইনের উপর থেকে উদ্ধার হয় বছর ২০-র এক যুবকের রক্তাক্ত দেহ। বুধবার সেই অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের পরিচয় জানা গিয়েছে। রেল পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম রাহুল সাউ (২০)। তিনি বেহালার পর্ণশ্রী এলাকার বাসিন্দা। কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের মর্গে গিয়ে রাহুলের মা ছেলের দেহ শনাক্ত করেন। মঙ্গলবারই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে মৃতদেহ। যদিও এই ঘটনার পিছনে রাহুলের পরিবার অন্য কিছু রয়েছে বলেই মনে করছে। পরিবারের দাবি, পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে রাহুলকে।
[কাটল জীবনের তাল, প্রয়াত ঢোলের জাদুকর বলরাম হাজরা]
মৃতের পরিবারের দাবি, রাহুল রামপুরহাটে মার্কেটিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। ডিসেম্বরে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি নিয়ে এক বন্ধুর সঙ্গে রামপুরহাটে চলে যান রাহুল। গত ৫ এপ্রিল মাকে ফোনে জানান, বোলপুর যেতে হচ্ছে তাঁকে। তারপর থেকে বারবার ফোন করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার। পরে জানা যায় কাঁথিতে এক যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনা। পকেটে অফিসে ছুটির আবেদনপত্র। পরিবারের অভিযোগের নিশানায় রয়েছে রাহুলের বন্ধুরা। পরিবারের প্রশ্ন, ঘটনার দিন রামপুরহাট থেকে বাড়ি ফিরছিলেন ওই যুবক। তাহলে কীভাবে রাহুল পৌঁছে গেলেন দিঘা রেল স্টেশনের কাছে? রাহুলের কাছে পাওয়া যায়নি তার কোনও ফোন বা ব্যাগ। এমনকী পরনে যে পোশাক ছিল তাও তাঁর নয় বলে পরিবারের দাবি।
[মহারাষ্ট্রে ফের আত্মঘাতী কৃষক, সুইসাইড নোটে অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী মোদি]
পরিবারের দাবি, এই ঘটনায় রাহুলের সহকর্মী ও বন্ধুদের বক্তব্য অসংগতিতে ভরা। কোনও বন্ধু বলেছে রাহুল আমাদের জামা পরে বাড়ি যাচ্ছিল। আবার কেউ বলেছে সে দিঘায় ঘুরতে গিয়েছিল। পরিবারের দাবি, পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করলেই রাহুলের মৃত্যু আসল কারণ জানা যাবে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দিঘা স্টেশনের জিআরপি। গোটা ঘটনায় পরিবার আতঙ্কিত। এলাকার লোকজনও কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না এই ধরনের ঘটনা।
The post দিঘা স্টেশনের কাছে বেহালার যুবকের দেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য appeared first on Sangbad Pratidin.
