সৌরভ মাজি, বর্ধমান: মনোনয়নপত্র স্ক্রুটিনির দিনও নির্বিবাদে কাটল না পূর্ব বর্ধমান জেলায়। মেমারিতে যে বাড়িতে বসে সিপিএম তথা বামেরা মনোনয়নপত্র পূরণ করেছিল সেই বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। প্রয়াত কৃষক নেতা প্রয়াত বিনয় কোঙারের বাড়ি, পাশে তাঁর মেয়ের বাড়িতেও হামলা হয় বলে অভিযোগ। জানালার কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। বুধবার দিনভর কার্যত গৃহবন্দি হয়ে কাটালেন বিনয়পুত্র অভিজিৎ কোঙার, কন্যা দীপা লাহার পরিবার। একইসঙ্গে গৃহবন্দি হয়ে পড়েন বহু সিপিএম নেতা-কর্মীও। পাশের বিডিও কার্যালয়ে স্ক্রুটিনিতে যোগ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন সিপিএমের স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান কৃষাণু ভদ্রও। যদিও তৃণমূলের দাবি, সিপিএম মিথ্যা অভিযোগ করছে। বরং তারাই তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা করে পরিবেশ উত্তপ্ত করে।
[প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকর্মীকে মারধর, বাড়িতে বোমাবাজি]
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন থেকেই কার্যত বিডিও কার্যালয় ও মহকুমা শাসকের দফতর সংলগ্ন এলাকা তৃণমূলের লাঠিধারী পাহারাদারদের দখলে ছিল। মেরেধরে বিরোধীদের বের করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। জেলার গ্রাম পঞ্চায়েতের এক তৃতীয়াংশর কিছু বেশি আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছে সিপিএম। তবে মেমারি-১ ব্লকই একমাত্র ব্যতিক্রম যেখানে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে সিপিএম। মেমারি শহরেই এই ব্লকের কার্যালয়। তার কাছেই বাড়ি বিনয় কোঙার ও তাঁদের পরিবারের অন্যান্যদের।
[আসন সংখ্যার তুলনায় দেড়গুণ বেশি প্রার্থী, বিক্ষুদ্ধদের নিয়ে নাজেহাল শাসকদল]
সিপিএমের জেল কমিটির সদস্য বিনয় কোঙারের পুত্র অভিজিৎবাবু। তিনি অভিযোগ করেন, এদিন সকাল থেকে তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা স্ক্রুটিনিতে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু বিডিও কার্যালয়ে ঢুকতে গেলে তাঁদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। এরপরই তাঁর ও তাঁর দিদিন বাড়িতে তৃণমূলের লেঠেলবাহিনী হামলা করে বলে অভিজিৎবাবু অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের বাড়িতে বসেই দলীয় কর্মীরা মনোনয়নপত্রে লেখালেখি ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এদিন স্ক্রটিনির আগেও একইভাবে দলের নেতা-কর্মীরা আসেন। প্রস্তুতি নিয়ে যেতে চান বিডিও কার্যালয়ে। কিন্তু কয়েকশো তৃণমূলী হামলা করে। মারধর করে। বাড়ি ভাঙচুর করে।” এমনকী বাড়ি থেকে বেরতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
[বদলেছে ‘পরিবর্তনের মুখ’! পঞ্চায়েতে অশান্তি নিয়ে সরব বুদ্ধিজীবীদের একাংশ]
সিপিএমের আরও অভিযোগ, বিডিও অফিসের ধারে কাছে পুলিশের দেখাও পাওয়া যায়নি এদিন। মারধর করে কেড়ে নেওয়া হয় প্রার্থীদের কাছে থাকা নথিপত্র। শাসক দলের লেঠেলবাহিনীর বাধায় বিরোধীদের কেউ স্ক্রুটিনিতে অংশ নিতে পারেনি। মেমারি থানায় ঘটনার সবিস্তার জানিয়েছেন বলে অভিজিতবাবু। একই সুরে অভিযোগ করেছেন বিজেপি বর্ধমান জেলার সাংগঠনিক সভাপতি সন্দীপ নন্দীও। তিনি বলেন, “মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনগুলির মতোই এদিনও তৃণমূলের বাহিনী সন্ত্রাস করেছে।”
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেমারি-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি মধুসূদন ভট্টাচার্য। পালটা অভিযোগ করে মধুসূদনবাবু বলেন, “বিনয় কোঙারের বাড়ি এবং তাঁর মেয়ের শ্বশুর বাড়ির জায়গায় বিগত কয়েকদিন সিপিএম ও বিজেপি নেতা ও কর্মীরা এক সঙ্গে বসে মনোনয়ন দাখিলের সব কাজকর্ম করেছে। এদিনও একই জাগায় সকাল থেকে জড়ো হয় সিপিএম ও বিজেপি কর্মীরা। এদিন তারা আমাদের ছেলেদের উপর ইট-পাথর ছোড়া শুরু করে। তৃণমূলের কর্মীরা তা প্রতিহত করেছে মাত্র।”
The post স্ক্রুটিনির দিনেও উত্তেজনা মেমারিতে, বিনয় কোঙারের মেয়ের বাড়িতে হামলা appeared first on Sangbad Pratidin.
