shono
Advertisement

দু'বার খারিজ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আবেদন, এবার বেকার ভাতার লাইনে চুঁচুড়ার এমএ পাশ যুবতী

যুবতী বলছেন, 'ভাতা ভালো, কিন্তু একটা চাকরি হলে আরও ভালো হয়। কে অন্যের উপর নির্ভরশীল হতে চায়?'
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 09:45 PM Feb 19, 2026Updated: 09:45 PM Feb 19, 2026

বিয়ের পর পদবি বদল হয়ে গিয়েছিল। তাই দু'বার আবেদন করেও 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' মেলেনি। তাই এবার রাজ্য সরকারের বেকার ভাতার লাইনে দাঁড়ালেন এমএ পাশ যুবতী। তবে মনে আশা-নিরাশার দোলাচল। এবারও কি পদবি বিভ্রাটে হাতছাড়া হবে সরকারি সুবিধা? দ্বিধা নিয়েও যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন করলেন চুঁচুড়ার তানিয়া মণ্ডল দাস। জানালেন, এমএ পাশ করে বাড়িতে বসে রয়েছেন, চাকরি মেলেনি। তাই রাজ্য সরকারের এই বেকার ভাতা পেতে আবেদন জানিয়েছেন। পদবি সংক্রান্ত যে জটিলতা রয়েছে, সেই সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান।

Advertisement

বাঙালি মেয়েদের বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন হয়। রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় এনিয়ে বেশ জটিলতা দেখা গিয়েছে। এমন অনেককেই শুনানিতে ডাকা হয়েছে যাঁদের বাপেরবাড়ির পদবি বিয়ের পর পরিবর্তন হয়েছে, শ্বশুরবাড়ির পদবি অনুযায়ী নতুন হয়েছে। শুধুমাত্র এই কারণে শুনানিতে ডেকে নথি দেখতে চাওয়া কিংবা যথাযথ কারণ ছাড়া এমন ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শাসকদলের নেতারা। কিন্তু এবার পদবি বিভ্রাটে রাজ্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না বলে হতাশা প্রকাশ করলেন চুঁচুড়ার তানিয়া মণ্ডল দাস। তাঁর দাবি, লক্ষ্ণীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন একবার নয়, দুবার খারিজ হয়েছে।

চুঁচুড়ায় যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনে দীর্ঘ লাইন। নিজস্ব ছবি

তানিয়ার কথায়, ''আমি এমএ পাশ করে বসে আছি। কোনও কাজ নেই। ভাতা ভালো, কিন্তু একটা চাকরি হলে আরও ভালো হয়। কে অন্যের উপর নির্ভরশীল হতে চায়? চাকরির পরীক্ষা দিয়েছি, কিন্তু হয়নি। ফর্ম ফিলাপ করতে খরচ আছে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেলে বছরে ১৮ হাজার টাকা কিছুটা হলেও চোখে দেখা যাবে।''

হুগলির মহসিন কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেছেন চুঁচুড়ারপ বাসিন্দা তানিয়া মণ্ডল। বিয়ের পর তাঁর পদবি হয় তানিয়া মণ্ডল দাস। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, ভোটার কার্ডে মণ্ডল পদবি থাকলেও আধার,প্যান, ব্যাঙ্কের পাশবই, বিবাহের শংসাপত্রে দাস পদবি জুড়ে যাওয়ায় তাঁর পরিচিতি নিয়ে জটিলতা বেড়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আবেদন গ্রাহ্য হয়নি। তাই এবার রাজ্য সরকারের বেকার ভাতা যুবসাথী প্রকল্পের জন্য আবেদন করছেন। তাতেও সন্দেহ, পদবি জটে এই সুবিধাও পাবেন কিনা। তানিয়ার কথায়, ''আমি এমএ পাশ করে বসে আছি। কোনও কাজ নেই। ভাতা ভালো, কিন্তু একটা চাকরি হলে আরও ভালো হয়। কে অন্যের উপর নির্ভরশীল হতে চায়? চাকরির পরীক্ষা দিয়েছি, কিন্তু হয়নি। ফর্ম ফিলাপ করতে খরচ আছে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেলে বছরে ১৮ হাজার টাকা কিছুটা হলেও চোখে দেখা যাবে।''

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, মহিলারা ২৫ বছর বয়স থেকেই প্রতি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান। ৬০ বছর পর্যন্ত তা পাবেন। ষাটোর্ধ্বদের ক্ষেত্রে এটাই বার্ধক্য ভাতা হিসেবে দেওয়া হবে তাঁদের। এখন সেই অঙ্কটা ১৫০০ টাকা। আর যুবসাথীর ভাতা পেতে হলে ন্যূনতম উচ্চমাধ্যমিক পাশ এবং বয়স ২১ হওয়া বাধ্যতামূলক। এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে ৪০ বছর পর্যন্ত। এই প্রকল্পের মেয়াদ পাঁচ বছর। তাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেলেই ভালো হতো বলে মত তানিয়ার। এনিয়ে চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষ বলেন, ''লক্ষ লক্ষ মহিলা পাচ্ছেন লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন, উনি পাবেন না কেন? তাঁর কাগজপত্রে যা ত্রুটি আছে, সেগুলো সংশোধন করে নেওয়া উচিত। কোনও অসুবিধা থাকলে আমাদের কাছে এলে আমরা নিশ্চয়ই সহযোগিতা করব।''

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement