অরূপ বসাক, মালবাজার: গত চারদিন অবহেলায় পড়ে থাকার পর চিকিৎসার সুযোগ পেলেন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা। একপ্রকার চাপে পড়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। এমনটাই খবর। ঘটনাটি ঘটেছে মালবাজার মহকুমার নাগরাকাটা জাতীয় সড়কের ময়না সেতুর উপরে। সেখানেই ভাঙা পা নিয়ে চারদিন ধরে পড়েছিলেন ওই মহিলা। অভিযোগ, বহু কাকুতি মিনতি করার পরেও অজ্ঞাতপরিচয় মহিলাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি পুলিশ। এমনকী, স্বাস্থ্য দপ্তরও। পরে চাপে পড়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে করে ওই মহিলাকে সুলকাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর মালবাজারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
[লক্ষাধিক টাকা মুক্তিপণ চেয়ে অপহরণ, জয়নগরে ধৃত ৩]
এই ঘটনার পরই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চারদিন ধরে ব্যস্ত রাস্তার ধারে পড়ে থেকেও কেন চিকিৎসা সহায়তা পেলেন না ওই মহিলা ? রুটিন টহলদারির সময় পুলিশ মহিলাকে দেখতে পেল না? নাকি স্বেচ্ছায় মহিলাকে এড়িয়ে গিয়েছে? যদিও এসব প্রশ্ন অস্বীকার করেছেন নাগরাকাটা থানার ওসি। তিনি বলেন, খবর না পাওয়ার জন্যই এমনটা হয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই মহিলাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরেও বিতর্কে জল পড়েনি। বিতর্ক থেকে বাদ যায়নি নাগরাকাটার স্বাস্থ্য দপ্তরও। এই প্রসঙ্গে নাগরাকাটা ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অভিষেক মণ্ডল বলেন, ‘এই মাত্র খবর পেলাম। তারপরই মহিলাকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহিলার পা ভেঙেছে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। তাই প্রাথমিক চিকিৎসার পর মাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। তাই ময়নাখোলা সেতুর কাছেই একটি ক্যাম্প করা হয়েছে কাজের জন্য। সেখানকার শ্রমিকরা অসুস্থ ওই মহিলাকে চারদিন ধরে দেখাভাল করছিলেন। ৩১নম্বর জাতীয় সড়কের কন্সট্রাকশন ডিভিশনের ইঞ্জিনিয়ার অর্কজ্যোতি শিল বলেন, ‘গত চারদিন ধরেই এই মহিলার সেবার কাজ করছেন শ্রমিকরা। প্রশাসনকে অনেকবার জানিয়েছি। কিন্তু সাহায্যের জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি।’
[ট্রেনে ঝুলন্ত দেহ, জিআরপিকে খবর না দিয়ে স্টেশনেই মৃতকে ফেলে দিলেন গার্ড]
The post পা ভেঙে রাস্তার পাশে, ৪ দিন পর চিকিৎসার সুযোগ পেলেন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা appeared first on Sangbad Pratidin.
