নতুন বছরেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মালদহের (Malda) রাজনৈতিক পরিবেশ। তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে যজ্ঞ দিয়েছেন, মৌসম নূর। কিন্তু এরপরেই শুরু হয়েছে সমস্যা। জানা গিয়েছে, মৌসম কংগ্রেসে ফিরতেই ভাঙন শুরু হয়েছে মালদহের 'হাত' শিবিরে। দুঃসময়ে ছেড়ে যাওয়া মৌসমকে মেনে নিতে পারছেন না অনেক কর্মী-সমর্থক। এই অবস্থায়, কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করলেন গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচ সদস্য। তাঁদের সঙ্গে আরও অন্তত পাঁচশো কর্মীর তৃণমূলে যোগদান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে প্রয়াত গনি খান চৌধুরির ভাগনি মৌসম নূরের 'ঘর ওয়াপসি'তে অন্তত মালদহ জেলায় কংগ্রেসের হাল ফিরবে বলে কিছুটা হলেও আশাবাদী কোতোয়ালি। কিন্তু তার উল্টো চিত্র দেখা গেল মালদহের (Malda) বৈষ্ণবনগরে। কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন ধরালেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক চন্দনা সরকার। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগদান করেন প্রায় ৫০০ জন কংগ্রেস কর্মী। একাধিক পঞ্চায়েত সদস্য-সহ দলীয় কর্মীদের দলত্যাগ করে তৃণমূলে যোগদানের ঘটনায় রীতিমতো বিড়ম্বনায় পড়েছে জেলার কংগ্রেস শিবির।
তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন চরিঅনন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে পাঁচজন পঞ্চায়েত সদস্য এবং একাধিক দলীয় নেতা। যোগদান করেছেন শাহানারা বিবি, হাবু মণ্ডল, অশোক মণ্ডল, তাজিনারা বিবি ও কাজিমুল শেখ। এছাড়াও কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদেন প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মোতিউর রহমান। বৈষ্ণবনগরের বিধায়ক চন্দনা সরকারের হাত ধরে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন।
এই কংগ্রেস ত্যাগের ঘটনায় এলাকার রাজনৈতিক উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়। মৌসম নূর কংগ্রেসে ফিরে আসার পর, জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দলের এক নেতার মতে, 'কংগ্রেসের দুঃসময়ে তৃণমূলে যোগ, তারপর ফের কংগ্রেসে ফিরে আসা', এই বিষয়টি দলের কর্মীরাই হজম করতে পারছেন না। নির্বাচনে 'সুবিধাজনক' রাজনীতির খেসারত দিতে হতেই পারে বলে মনে করেন জেলার ওই কংগ্রেস নেতা।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই যোগদান তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শনিবার সন্ধ্যায় তৃণমূলের ওই যোগদান কর্মসূচিতে বিধায়ক চন্দনা সরকার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বৈষ্ণবনগর বিধানসভা তথা কালিয়াচক-৩ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মাসিদুর রহমান, অঞ্চল সভাপতি আনিকুল ইসলাম-সহ দলের একাধিক নেতা-কর্মী।
তৃণমূল বিধায়ক চন্দনা সরকার বলেন, "মৌসমকে এলাকার মানুষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কেউ ভাবছেন না। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা রেখেই বিরোধী দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।" মালদহ জেলা কংগ্রেস সভাপতি সাংসদ ইশা খান চৌধুরি বলেন, "এই সব ভোটে প্রভাব ফেলবে না। তৃণমূল বুঝতে পারবে ছাব্বিশের ভোটের ফলাফলে। এটা বরকত সাহেবের জেলা। কংগ্রেসের কাছে তৃণমূল পরাস্ত হবে।"
