বাবুল হক, মালদহ: দুঃস্থ মেধাবী পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষার প্রসার। এই অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করলেন মাসুদ সেলিম। ‘এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন উত্তর মালদহের একটি বেসরকারি জুনিয়র বিএড কলেজের এই শিক্ষক। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
[জঙ্গলে কারা দিচ্ছে আগুন? হাতির চিৎকারে অস্থির এলাকাবাসী ]
এশিয়ার মোট ৪০ জনকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক ক্ষেত্রে অবদানের ভিত্তিতে সেখানে সম্মানিত করেছে ‘গ্লোবাল অ্যাচিভার ফাউন্ডেশন’ নামক একটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে সেই সম্মান পান মালদহের মাসুদ সেলিম। মাসুদের বাড়ি গাজোলের দেওতলার কালাকুড়ি গ্রামে। গাজোলের দেওতলা এলাকার দুঃস্থ মেধাবী খুদে পড়ুয়াদের একত্রিত করে তিনি বিনামূল্যে পড়াশোনা করান। একটি কোচিং সেন্টারও গড়ে তোলেন তিনি। সেখানে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক এনে বিনামূল্যে শিক্ষাদান করা দিয়ে শুরু করেছিলেন। বর্তমানে মাসুদ এই ধরনের দু’টি স্কুল ও চারটি বেসরকারি কলেজ গড়ে তুলেছেন। সমাজে তাঁর এই বিশেষ অবদানের জন্য তাইল্যান্ডের ব্যাংককে গ্লোবাল অ্যাচিভার ফাউন্ডেশনের তরফে তাঁকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।
মালদহে ফিরে মাসুদ জানিয়েছেন, দেশের প্রাক্তন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই কাজটি শুরু করেছিলেন। তাঁর এই কীর্তিতে বিশ্ব দরবারে রাজ্য ও দেশের নাম উজ্জ্বল হয়েছে। মেধাবী খুদে পড়ুয়ারাই দেশের ভবিষ্যৎ। তবে অভাব ও সংসারের চাপে অনেকেই পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারেনা। এহেন দুঃস্থ মেধাবী পড়ুয়াদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন এই শিক্ষক।
ছবি : হরেন চৌধুরি
