shono
Advertisement

ডাইনি! মাতব্বরদের ফতোয়ায় গাজোলে পুজোয় ব্রাত্য মহিলারা

আজও কুসংস্কারের বেড়াজাল। The post ডাইনি! মাতব্বরদের ফতোয়ায় গাজোলে পুজোয় ব্রাত্য মহিলারা appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 01:59 PM Mar 09, 2018Updated: 01:37 PM Sep 13, 2019

বাবুল হক, মালদহ: গ্রামের আদিবাসী মহিলারা তাঁদের ধর্মীয় স্থানে গিয়ে পুজো দিলে বা থানে গিয়ে পবিত্র জল ঢাললে নাকি গ্রামে মহামারী হবে। মানুষ-গবাদি পশু বেঁচে থাকবে না। একবিংশ শতাব্দীতেও এমন মধ্যযুগীয় কুপ্রথা চালু মালদহের গাজোল থানার বগলাটুলি গ্রামে। আর এমন কুসংস্কারের বেড়াজাল ভাঙতে নারী দিবসকেই বেছে নিলেন সেখানকার ব্রাত্য আদিবাসী মহিলারা। আর পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ‘ফরমান’-এর শিকড়ে আঘাত করতেই পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে উঠেছে বগলাটুলি গ্রামে। বাধা দেন মোড়লরা। সরব মহিলারাও। শেষপর্যন্ত আসরে নামতে হয়েছে পুলিশক প্রশাসনকে। দু’পক্ষকে নিয়ে ইতিমধ্যেই শান্তি বৈঠক করেছে পুলিশ ও ব্লক প্রশাসন। যদিও তারপরও পুজো করা বা জল ঢালার অনুমতি মেলেনি আদিবাসী মহিলাদের।

Advertisement

[নারীশক্তিকে মেট্রো রেলের কুর্নিশ, নেতাজি ভবন এখন লেডিজ স্পেশ্যাল স্টেশন]

মালদহ শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশেই আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম বগলাটুলি। এই গ্রামেই দীর্ঘ দিনের ধর্মীয় স্থান জাহের থানকে ঘিরে এই বিবাদও দীর্ঘদিনের। বাহা পরবের জন্য নির্দিষ্ট একটি পূজার স্থান থাকে আদিবাসীদের। একে সাঁওতালরা জাহের থান বলে থাকেন। মালদহের বগলাটুলি গ্রামে প্রায় ৬০টি আদিবাসী পরিবার বাস করে। তাঁদের জাহের থানটি রয়েছে গাছগাছালিতে ঘেরা প্রায় চার কাঠা জমির উপর। এই ধর্মীয় স্থানে তাঁরা বছরে তিনবার পুজো-অর্চনা ও প্রার্থনা করেন। আর এই কাজ মূলত করেন গ্রামের পুরুষরাই। মহিলারা আজও ব্রাত্য। পূর্বপুরুষদের প্রথা মেনে এখনও এই স্থানে পুজো করতে যেতে দেওয়া হচ্ছে না মহিলাদের। এই মধ্যযুগীয় নিদান ঘিরেই ছড়িয়েছে উত্তেজনা।

বগলাটুলির এক যুবক আমবাসো হাঁসদার দাবি, “আমরা আগে থেকেই এই থানে পুজো করি। ওখানে মহিলাদের ঢোকা বারণ আছে। সেই নিয়মই বহাল থাকবে।” শুধু গ্রামের মহিলাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না তাই নয়, পুজো করতে যাওয়া মহিলাদের ‘ডাইনি’ অপবাদ দিয়ে গ্রামে একঘরে করে রাখার চেষ্টাও চলছে বলে অভিযোগ। গ্রামের মোড়লদের মতে, মহিলারা এই ধর্মীয় স্থানে গেলে গ্রামের ক্ষতি হচ্ছে। মড়ক লাগছে। মারা যাচ্ছে পশু-পাখি। ক্ষতি হচ্ছে মানুষজনেরও। বৃহস্পতিবারও এমন দাবি করেন বিনয় মুর্মু, কাসো মুর্মু, মিস্ত্রি টুডুরা। বিনয় মুর্মু বলেন, “আমরা তো বছরে তিনবার এখানে পুজো করি। ওদের পুজোতে আমাদের আপত্তি নেই। ওরা অন্য কোথাও পুজো করুক। থানে পুজো করতে দেব না।” আর এক গ্রামবাসী মিস্ত্রি টুডু বলেন, “ওঁরা প্রত্যেক রবিবারে পুজো করতে চাইছেন, থানে জল ঢালতে চাইছেন। ওরা থানায় জিডি করেছেন। শান্তি মিটিং ডাকা হয়েছিল। আমরা বলে দিয়েছি, মেয়েদের পুজো এখানে হবে না। ব্রিটিশ আমল থেকে যে নিয়ম চলছে, সেটাই থাকবে।”

দীর্ঘদিন ধরেই অশিক্ষা আর কুসংস্কারের অন্ধকারের ঘেরাটোপে থাকা বগলাটুলি গ্রামের কিছু শিক্ষিত মানুষ এবং মহিলারা এই মধ্যযুগীয় নিদানের বিরুদ্ধে কার্যত লড়াই শুরু করেছেন। রুপিকা টুডু, নরেন বাসকেরা বলেন, “মহিলারা থানে গেলে কোনও ক্ষতি নেই। আমরাও পুলিশ-প্রশাসনকে বলে দিয়েছি, প্রত্যেক রবিবারে আমরা থানে গিয়ে পুজো করব।” যদিও এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের কর্তারা। উত্তেজনা রয়েছে মালদহের বগলাটুলি গ্রামে।

[লুকিয়ে পরীক্ষা দিয়ে রেলের স্টেশন মাস্টার, স্ত্রীর কৃতিত্ব উদযাপনে স্বামী]

The post ডাইনি! মাতব্বরদের ফতোয়ায় গাজোলে পুজোয় ব্রাত্য মহিলারা appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার