সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ছাত্র জীবন থেকেই তিনি সংগ্রামী৷ সামাজিক আন্দোলনই তৈরি করেছে তাঁর রাজনৈতিক অগ্রগতির পথ৷ নিজের দলের ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে বার্তা দিতে গিয়ে ছাত্র কর্মীদের সেই আন্দোলনের পথেই উদ্বুদ্ধ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আর সে আন্দোলনের টার্গেট যে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, তাও এই মঞ্চেই ঠিক করে দিলেন তিনি৷
রাজ্যে ব্র্যান্ড তৃণমূলের মুখ যে তিনি নিজেই তা নিয়ে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই৷ আর তাই ছাত্র-যুবাদের উৎসাহিত করতে নিজের সংগ্রামী জীবনই তুলে ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ জানালেন, ছাত্র জীবন থেকে যাঁরা সংগ্রাম করেন তাঁরা কখনও চোর হতে পারে না৷ যুবা ও ছাত্ররাই দেশের ভবিষ্যত বলে ছাত্রদের আন্দোলনে এগিয়ে আসার ডাক দেন তিনি৷ এবং, সে আন্দোলন বর্তমান কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধেই৷ রাজ্য সরকারের কাজে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে, তিন মাসের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান না হলে তৃণমূল যে আন্দোলনের পথে নামবে সে হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখলেন তিনি এমনকী স্কলারশিপের টাকা বন্ধ হলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ছাত্র পরিষদও যে আন্দোলনের পথ ধরবে সে কথাও জানিয়ে রাখলেন৷
এদিন ছাত্রদের সামনে রাজ্যের প্রায় সব সমস্যা তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী৷ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক প্রকল্পে কেন্দ্র টাকা বন্ধ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তাঁর কটাক্ষ, “এই টাকায় মোদি কি স্যুট কিনবে?” দলিত ও সংখ্যালঘুদের প্রতি অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার দলীয় অবস্থানও আরও একবার স্পষ্ট করে দেন৷
কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগার পাশাপাশি এদিন বাম সরকারকেও এক হাত নেন মমতা৷ জানান, ৬৫,০০০ স্কুল শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য তৈরি রাজ্য সরকার৷ কিন্তু বাম আমলের মামলার জেরেই এখনও সে নিয়োগ সম্পূ্র্ণ করা যাচ্ছে না৷ বিগত সরকারের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে বলেন, “কোনও কোনও রাজনীতিবিদ শিক্ষক নিয়োগের বিরুদ্ধে মামলা করে, আবার কেন শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন৷” তাঁর অভিযোগ, “কেন্দ্রে যখন কংগ্রেস ছিল, রাজ্যে ছিল বাম সরকার, কেউ কোনও কাজ করেনি৷” কংগ্রেস তার প্রতিবাদের ভাষা হারিয়েছে বলেও এদিন জাতীয় স্তরে তৃণমূলের শক্তি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়ে রাখেন তৃণমূল নেত্রী৷
রাজ্যের সাফল্যের নানা খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি এদিন তিনি জানিয়ে দেন বনধের সংস্কৃতি এ রাজ্যে চলবে না৷ “বাংলায় বনধ তৃণমূল বরদাস্ত করবে না৷ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সব খোলা রাখব৷ কেউ জোর করে বনধ করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷,” বলেন মমতা৷ ২ সেপ্টেম্বর সেন্ট্রাল ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা দেশব্যাপী বনধ সম্পর্কে রাজ্যের অবস্থানও স্পষ্ট করে দিলেন তিনি৷ এদিন যুবা-ছাত্রদের ব্যবসাতেও উৎসাহ দেন তিনি৷ জানান, “যাঁরা নিজেদের ব্যবসা করবেন তাঁদের জন্য অনলাইনে বিপণনের ব্যবস্থাও করা হবে৷” বাংলার নাম পরিবর্তন নিয়েও তরুণদের মতামত এই মঞ্চ থেকে জেনে নেন তণমূল নেত্রী৷ কেন্দ্র সরকারে বিরুদ্ধে আঞ্চলিক দলগুলিকে নিয়ে যে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করছেন তিনি, এদিন ছাত্র-যুবাদের সেই আন্দোলনের রুটম্যাপটাই যেন বুঝিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
