"ববিদাকে ফোন করব।" ফিরহাদ হাকিমের পত্যাগের পরই জল্পনা বাড়ালেন 'আসল তৃণমূল' ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, শুক্রবার বিধানসভার বাইরে তিনি বলেন, "ববিদার নিজস্ব সিদ্ধান্ত আমি যতটুকু শুনেছি। আমি তখন একটা কাজ করছিলাম। বাকি যারা ছিলেন তাঁরা বললেন, ববিদার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। ববিদার সঙ্গে আমার এর মধ্যে কথা হয়নি। আমার সঙ্গে এর আগে দেখা হয়েছিল। দেখি যদি হয়, ববিদাকে ফোন করব।" রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যে রীতিমতো জল্পনা ছড়িয়েছে। তাহলে কি এবার 'আসল তৃণমূল'-এর সদস্য হওয়ার প্রস্তাব ঘুরিয়ে যেতে পারে ফিরহাদ হাকিমের কাছে? সেই চর্চাও শুরু হয়েছে।
কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে আজ, শুক্রবার দুপুরের পর ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি ইস্তফা দিতে পারেন, সেই জল্পনা দিন কয়েক ধরেই চলছিল। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলে ভরাডুবির পর থেকেই কলকাতা পুরসভায় ডামাডোল। এদিন চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিলেন মহানাগরিক। স্বাভাবিকভাবেই কলকাতা পুরসভাও হাতছাড়া হল তৃণমূলের। তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' বিধায়করা বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার মধ্যে দিয়ে তারাই এই মুহূর্তে রাজ্যের বিরোধী দল। তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল কংগ্রেসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোদ্ধা হিসেবে বরাবরই দেখা গিয়েছে ফিরহাদ হাকিমকে। ভরাডুবির সময়ও তাঁকে নেত্রীর পাশেই দেখা গিয়েছে। তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিও ফিরহাদ হাকিম দিন কয়েক ধরে নরম মনোভাবাপন্ন! সেই কথাই তৃণমূলের অন্দরে শোনা গিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোদ্ধা হিসেবে বরাবরই দেখা গিয়েছে ফিরহাদ হাকিমকে। তৃণমূলের ভরাডুবির সময়ও তাঁকে নেত্রীর পাশেই দেখা গিয়েছে। তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিও ফিরহাদ হাকিম দিন কয়েক ধরে নরম মনোভাবাপন্ন! সেই কথাই তৃণমূলের অন্দরে শোনা গিয়েছে। আজ, শুক্রবার বিকেলে তৃণমূলের নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। সেখানে কোথাও ফিরহাদের নাম নেই! তাহলে কি কালীঘাট দূরত্ব বাড়াচ্ছে ফিরহাদের সঙ্গে? রাজ্য রাজনীতিতে গত ১০ দিনে একাধিক রাজনৈতিক সমীকরণ দেখা গিয়েছে। ফলে কোন স্রোত বইছে, সেই নিয়ে চর্চা, গুঞ্জন থাকছে। যদিও নেত্রী মমতা জানিয়েছেন, ফিরহাদকে দলে সম্মানজনক পদ দেওয়া হবে।
এদিন ঋতব্রত বলেন, "ববিদার সঙ্গে আলাপ আমার আজকে নয়, যে বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছি ১৯৯৮ সালে, সেই বছর থেকেই আলাপ। বহু পুরনো আলাপ। আমি এর বেশি আর কিছু আজ বলছি না। ববিদার সঙ্গে কথা হয়নি। তবে আজকে রাতে বা কাল সকালেও ফোন করতে পারি। তাহলে কি ঋতব্রত ও ফিরহাদের নতুন কোনও সমীকরণ দেখা যাবে বঙ্গ রাজনীতিতে? সেই চর্চা শুরু হয়েছে।
