আছড়ে পড়া ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস আর সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি প্রতিনিয়ত তছনছ করে দিচ্ছে মানুষের জীবন। কলকাতা থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুন্দরবন তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। গতকাল সন্ধ্যায় কলকাতায় ইউনিসেফ (UNICEF)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে উঠে এল জলবায়ু পরিবর্তনের সেই জরুরি খতিয়ান ও প্রতিরোধের নানা উপায়। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মাঝেই আশার আলো দেখাচ্ছে এ রাজ্যের যুবসমাজ।
প্রযুক্তি ও উন্নয়নের আড়ালে লুকিয়ে থাকা পরিবেশের ক্ষতি নিয়ে সরব হলেন তরুণ-তরুণীরা। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের পড়ুয়া আতিকা সেখ ও শান্তম দে মনে করিয়ে দিলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI)-এর বিপজ্জনক দিকটি। এই প্রযুক্তি ব্যবহারে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও জলের অপচয় হচ্ছে। শান্তম মনে করেন, পরিবেশ রক্ষার লড়াই শুরু হওয়া উচিত নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্র থেকেই। তবে শুধু প্রযুক্তিকে দোষারোপ নয়, সবুজ রূপান্তরের কথা বললেন জুওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার অধিকর্তা ড. ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারত এক বিশাল জীববৈচিত্র্যের দেশ। এখানে প্রায় ১,০৫,২৪৪টি প্রজাতির বাস। মৌমাছির পরাগায়ন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষুদ্র জীবের অস্তিত্ব মানুষের অন্নের সংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। তাই গাছ কাটার বিরুদ্ধে ও বাসস্থান রক্ষার জন্য তরুণ প্রজন্মকে প্রতিবাদের ভাষা হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নেতাজি নগর কলেজ ফর উইমেনের পড়ুয়ারা পরিবেশ রক্ষায় ‘কার্বন ট্যাক্স’ চালুর প্রসঙ্গ তোলেন। তবে সৌরশক্তি বিশেষজ্ঞ ড. এস পি গন চৌধুরী জানান, দরিদ্র মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে বলে ভারতে এই কর ব্যবস্থা এখনই কার্যকর করা সম্ভব নয়। বরং বর্জ্য পদার্থের পুনর্ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। একইভাবে পুনর্ব্যবহারের বার্তা দেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পৃথা ভট্টাচার্যও।
তরুণরাই যে কেবল জলবায়ু সংকটের শিকার নয়, বরং তারাই প্রকৃত ‘জলবায়ু যোদ্ধা’, এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন পশ্চিমবঙ্গে ইউনিসেফের প্রধান ড. মনজুর হোসেন। পরিবেশের এই চরম সংকটের দিনে ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের প্রবীণ বিজ্ঞানী ড. এইচ আর বিশ্বাস জানান, বর্তমানে প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রাকৃতিক দুর্যোগই ঘটছে চরম আবহাওয়ার কারণে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তুহিন ঘোষ এবং পরিবেশ সাংবাদিক জয়ন্ত বসুও সুন্দরবনের বিপন্নতার ছবি তুলে ধরেন। সব মিলিয়ে, এই আলোচনা স্পষ্ট করে দিল যে, যুবসমাজের সৃষ্টিশীল ভাবনাই পারে পৃথিবীর ক্ষত নিরাময় করতে।
