ধীমান রায়, কাটোয়া: স্ত্রীর বিরুদ্ধে সন্তানদের পাচারের অভিযোগ তুললেন স্বামী। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃত মহিলার নাম কণিকা মুখোপাধ্যায় (৪৪)। ধৃতকে বুধবার কাটোয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক ছ’দিনের পুলিশ হেফাজতে নির্দেশ দেন। জানা গিয়েছে, ন’বছর আগে দুই সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে যান কণিকাদেবী। এই ঘটনার পরেও মাঝেমধ্যে সন্তানকে দেখতে যেতেন স্বামী জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়। কিন্তু এই ন’বছরে সন্তানদের একবারও দেখতে পাননি তিনি। এরপরেই স্ত্রীর বিরুদ্ধে সন্তানদের পাচারের অভিযোগ তুলে থানায় যান।
[ জিএসটি-র কোপে পড়ে ভোটের বাজারে বেজায় চটে ‘নির্বাচন’! ব্যাপারটা কী?]
জয়ন্তবাবুর বাড়ি মঙ্গলকোট থানার শীতলগ্রামে। প্রায় ১৭ বছর আগে কণিকাদেবীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তারপর দুই সন্তান। মেয়ে বৈশাখির জন্ম ২০০১-এ। ছেলে সুশান্তের বয়স এখন ১৫। স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই খুঁটিনাটি ঝামেলা লাগত তাঁর। সেসময় বধূ নির্যাতনের মামলাও করেন কণিকাদেবী। এরপর আচমকাই ন’বছর আগে ছেলেমেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাপেরবাড়ি কাটারিয়া গ্রামে চলে যান। তারপর থেকে স্ত্রীর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না। ছেলেমেয়েকে দেখার জন্য তিনি মাঝেমধ্যে কাটারিয়া গ্রামে যেতেন জয়ন্তবাবু। কিন্তু কোনওদিনই তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ছেলেমেয়েকে দেখতে পাননি। এভাবেই কেটে যায় এতগুলি বছর। এই প্রসঙ্গে জয়ন্তবাবু বলেন, ‘আমার সন্দেহ হত স্ত্রীকে। সেই কোথাও দুই সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছে। এনিয়ে কয়েকবার কৈচর পুলিশ ফাঁড়ি ও মঙ্গলকোট থানায় অভিযোগও জানাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমার অভিযোগ নেয়নি। পুলিশ সহযোগিতা করেনি। তারপর আদালতে অভিযোগ জানাই।’
[আজব চোরের গজব নেশায় শোরগোল গলসিতে]
পুলিশ সূত্রের খবর, গত ২৫ জানুয়ারি কাটোয়া মহকুমা আদালতে অভিযোগ জানান জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়। অভিযোগ পেয়ে আদালত পুলিশকে এফআইআর দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপরই মঙ্গলবার রাতে কাটারিয়া থেকে কণিকা মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেরায় কণিকাদেবীর কথাবার্তায় প্রচুর অসংগতি দেখা দিয়েছে। হেফাজতে নিয়ে ফের তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এই পথেই দুই সন্তানকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে এখনও পুলিশি জেরায় সন্তান পাচার নিয়ে মুখ খোলেননি ওই মহিলা।
ছবি: জয়ন্ত দাস
The post স্ত্রীর বিরুদ্ধে সন্তানদের পাচারের অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ স্বামী appeared first on Sangbad Pratidin.
