১৭ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে মতুয়া ধর্ম মহামেলা। এই উপলক্ষে গাইঘাটা ঠাকুরনগরে মতুয়া ঠাকুরবাড়ি সেজে উঠেছে। মেলার মাঠে দোকানপাট বসতে শুরু করেছে। পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন। এবারের মেলা নিয়ে মতুয়া ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ ও আতঙ্ক দুই-ই রয়েছে। কারণ, এবারই প্রথম ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে থাকা তিনটি অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ একসঙ্গে মেলার আয়োজন করছেন। মতুয়া ভক্তদের বক্তব্য, তাঁরা এটাই চেয়েছিলেন। ঠাকুরবাড়ি ধর্মীয় তীর্থস্থান, তাঁরা ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। কিন্তু গোলমালে সে সব লাটে ওঠে।
এদিকে, এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বহু মতুয়ার নাম বাদ গিয়েছে। তাই তাঁরা মেলায় যাবেন কি না, তা নিয়ে দোলাচলে রয়েছেন। তাঁদেরই একজন গণেশ বাইন বলেন, "ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে। ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে কি না জানি না। মন ভালো নেই। তবুও এবার মেলায় গিয়ে কামনাসাগরে পুণ্যস্নান করব। ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করব যেন ভোটার তালিকায় নাম উঠে যায়। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা অনেকেই এবার আর মেলায় যেতে চান না। তাঁদেরই একজন, অনিরুদ্ধ বিশ্বাস বলেন, "মন ভালো নেই, তাই এবার মেলায় যাওয়ার ইচ্ছা নেই।”
তবে অনেক মতুয়া ভক্তই ঠাকুরবাড়িতে যাবেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের কাছে জবাবদিহি চাইতে। কারণ, শান্তনু ঠাকুর তাঁদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকবে। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, কেন আমাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হল? ঠাকুরবাড়ির সন্তানদের কাছে এটা আশা করিনি। ওঁর কাছে সঠিক উত্তর না পেলে আমরা রাস্তায় নামব।
ইতিমধ্যেই তিন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের পক্ষ থেকে মেলা উপলক্ষে একত্রে লাল নিশানা উত্তোলন করা হয়েছে। তিন মতুয়া মহাসংঘের সদস্যদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন মহাসংঘের নেতৃত্বে আছেন যথাক্রমে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুর এবং গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর। বছরভর এদের মধ্যে রাজনৈতিক আকচাআকচি লেগেই থাকে। সাম্প্রতিককালে সুব্রত ঠাকুরের সঙ্গে ভাই শান্তনু ঠাকুরের বিবাদও প্রকাশ্যে আসে নাটমন্দিরে সিএএ সহায়তা ক্যাম্প নিয়ে।
