দেবব্রত মণ্ডল, কাকদ্বীপ: দলীয়কর্মী খুনের ঘটনায় রাজ্য সরকারকেই একহাত নিলেন সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম। রাজ্য সরকারের শর্ট সার্কিটের তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়ে পালটা আক্রমণ করেছেন সেলিম। বলেছেন, ‘রাজ্য সরকারের শর্ট সার্কিট হয়ে গিয়েছে।’ সিপিএমের কর্মী সমর্থক দেবু দাস ও তাঁর স্ত্রী ঊষা দাসের খুনের প্রতিবাদেই রবিবার কাকদ্বীপের উকিলের হাটে সভা করে বামেরা। সেই প্রতিবাদ সভার মঞ্চ থেকেই রাজ্যসরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন সিপিএম সাংসদ। তিনি বলেন, ‘কাকদ্বীপে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত দুই দলীয় কর্মীকে খুন করা হয়েছে। শর্ট সার্কিট থেকে বাড়িতে আগুন লাগেনি। ইতিমধ্যেই ৩০২ ধারার আওতায় খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত। অথচ রাজ্য সরকারের দাবি এটি শর্ট সার্কিটের ঘটনা। আসলে রাজ্যের শর্ট সার্কিট হয়ে গিয়েছে।’
[ভোট পরবর্তী হিংসায় ঘর ছাড়া বিরোধীরা, অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে]
সিপিএম সাংসদ আরও বলেন, ‘রাজ্যে গণতন্ত্রকে খুন করার প্রচেষ্টা চলছে। এখানে দলীয়কর্মী দেবু ও ঊষাকে খুন করা হয়েছে। রাজ্যসরকার সেই খুনের ঘটনাকে স্বীকার না করে তা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।’ অন্যদিকে আর এক বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘মৃতের পরিবার এই খুনের ঘটনায় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। শোকাহত পরিবারের তরফে সিবিআই তদন্তের দাবি করা হয়েছে। এই একই দাবি আমরাও করছি। আমরা চাই প্রকৃত দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক।’
উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত ভোটের আগের রাতেই বাড়ির মধ্যে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় দেবু ও ঊষা দাসের। দু’জনেই বাম কর্মী সমর্থক হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত। ছেলের চোখের সামনেই পুড়ে মৃত্যু হয় বাবা-মায়ের। ভোটের দিন সকালে স্থানীয় শাসক দলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করেন মৃত দম্পতির ছেলে। তবে রাজ্য সরকারের তরফে সেই অভিযোগকে আমল দেওয়া হয়নি। উলটে শর্ট সার্কিটে মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই ঘটনার পরেই প্রতিবাদে নামে স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব। ভোট গণনার দিন সকালে পুলিশের বিরুদ্ধে দেহ আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়। এর প্রতিবাদে পথে নামেন সিপিএম নেতারা। এখন সুবিচারের আশায় হাই কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মৃত দম্পতির ছেলে।
[বাম-কংগ্রেস জোটের ছাপও পড়ল না গ্রামীণ হাওড়ায়, জয় তৃণমূলেরই]
The post রাজ্য সরকারের শর্ট সার্কিট হয়েছে, কাকদ্বীপের প্রতিবাদ সভা থেকে তোপ সেলিমের appeared first on Sangbad Pratidin.
