সৌরভ মাজি, বর্ধমান: ডাক্তারি পড়ার খরচ জুগিয়েছে তরুণীর বাবা। শর্ত ছিল ডাক্তারি পাশ করে বিয়ে করতে হবে তাঁর মেয়েকে। কিন্তু সেই তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনেরপর দিন সহবাস, ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ডাক্তারি পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হয়ে আপাতত শ্রীঘরে অভিযুক্ত। যদিও ওই হবু ডাক্তারের দাবি, ওই তরুণী তাঁর স্ত্রী। ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন অভিযোগ করেছে।
[কন্যাসন্তান হলে তালাকের হুমকি, অপমানে আত্মঘাতী জলপাইগুড়ির তরুণী]
চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার বরণডালা গ্রামে। ধৃত ডাক্তারি পড়ুয়ার নাম মহিবুল শেখ। ধৃতকে বুধবার কালনা আদালতে পেশ করা হয়। এসিজেএম কুসুমিকা দে মিত্র ধৃতকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিন বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন ওই তরুণী। কালনা মহকুমা হাসপাতালে তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষাও করানো হয়। ৩ মার্চ কেস ডায়েরি পেশ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তরুণীর বাড়ি ওই গ্রামেই। মহিবুল পড়াশোনায় বরাবরই ভাল। বর্তমানে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন। ওই তরুণীর বাবা পুলিশে অভিযোগে জানিয়েছেন, আড়াই বছর আগে তাঁর মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় মহিবুলের। তারপর সম্পর্ক গভীর হয়। বিষয়টি জানা জানি হওয়ার পর মহিবুলের বাবা বিলাল শেখ ওই তরুণীর বাবাকে প্রস্তাব দেন, ছেলের ডাক্তারি পড়ার খরচ বহন করলে তিনি ওই তরুণীর সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেবেন। তাতে সম্মত হন নির্যাতিতার বাবা। সেই সময় তাঁর মেয়ে নাবালিকা থাকায় বিয়ে হয়নি। তাঁর অভিযোগ, তার পর থেকেই মেয়ের সঙ্গে সহবাস করে মহিবুল। গর্ভবতীও হয়ে পড়েন ওই তরুণী। মহিবুলের বাকদত্তা সম্প্রতি ১৮ বছর বয়স হওয়ায় বিয়ে করার জন্য বলে। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি মহিবুল।
তরুণীর বাবার অভিযোগ, সম্প্রতি মেদিনীপুরে অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে মহিবুল। তা জানতে পেরে তরুণী প্রতিবাদ করেন। নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, এরপরই মহিবুল গ্রামে আসে। মেয়ের মোবাইলে থাকা তাদের অন্তরঙ্গ কিছু ছবি ও ভিডিও মুছে দেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দেন ওই তরুণী। অভিযোগ, সেই সময় তরুণীকে বিষাক্ত কিছু খাইয়ে খুনের চেষ্টা করে মহিবুল। গত ১৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনা এটি। এরপর তরুণীকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। মঙ্গলবার ওই তরুণীর বাবা মন্তেশ্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তের আইনজীবী পার্থসারথি কর বুধবার কালনা আদালতে জানান, ওই তরুণী মহিবুলের বিবাহিত স্ত্রী। বিবাহ হলেও তা রেজিস্ট্রি করা হয়নি। মেয়েটির বাবা মহিবুলের ডাক্তারি পড়ার খরচ জুগিয়েছেন সেটাও ঠিক। আদালত চাইলে এখনই রেজিস্ট্রি করাতেই রাজি তাঁর মক্কেল। তিনি আদালতে আরও জানান, মেয়েটি সন্দেহবাতিক। মেডিক্যাল কলেজের কিছু ছবি দেখে মহিবুলকে সন্দেহ করতে শুরু করে। তাই মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। পার্থসারথিবাবু পরে বলেন, মহিবুল মেধাবী ছাত্র। বিবাহিত স্ত্রী ষড়যন্ত্র করে অভিযোগ করেছেন।
[ট্রেনে আসন সংরক্ষণ করে ডাকাতি, অপারেশনের ছকবদলে তাজ্জব রেল পুলিশ]
The post বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, খুনের চেষ্টায় ধৃত ডাক্তারি ছাত্র appeared first on Sangbad Pratidin.
