সাইবার প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না রাজ্যের মন্ত্রী, বিধায়করা। এবার রাজ্যের কৃষি প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কু (Amiya Kisku) সাইবার হানার শিকার হলেন। তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ আচমকাই অ্যাকাউন্টটির নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতছাড়া হয়ে যায় বলে অভিযোগ। এরপরই বিষয়টি পুলিশকে জানান তিনি। পাশাপাশি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তাঁর অনুরোধ, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কোনও ফোন বা মেসেজ গেলে যেন কেউ সাড়া না দেন। সম্প্রতি, আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে পরিচিতদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছিল। এবার আর এক মন্ত্রীও এই প্রতারণার শিকার হলেন।
মন্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হোয়াটসঅ্যাপ স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহার করছিলেন তিনি। ফোন ও মেসেজও আদান-প্রদান হচ্ছিল। কিন্তু সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ আচমকাই অ্যাকাউন্টটি হ্য়াক হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকেই ফোন এবং মেসেজ যাচ্ছে। বিষয়টি বুঝতে পেরেই সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে সকলকে সতর্ক করে দেন।
অমিয় বলেন, ‘‘সকাল পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। সাড়ে ১১টার পর হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে জানতে পারি, ওই নম্বর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন ও মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। আমার নাম করে কেউ আর্থিক সাহায্য চাইলে, ওটিপি বা ব্যক্তিগত কোনও তথ্য জানতে চাইলে যেন কেউ তা না দেন, সেই আবেদনই জানিয়েছি। পুলিশেও অভিযোগ করেছি।’’ মন্ত্রী আরও জানান, এই ধরনের প্রতারণা তাঁর সঙ্গে এই প্রথমবার ঘটেছে।
নয়াগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের তিন বারের বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি দুলাল মুর্মুকে সাড়ে ছ’হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন অমিয় কিস্কু। বর্তমানে রাজ্য মন্ত্রিসভায় কৃষি, কৃষি বিপণন এবং উদ্যানপালন—এই তিন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ফলে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘মন্ত্রী সাহেবের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে ঠিক কী সমস্যা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’
সূত্রের খবর, সাধারণভাবে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে সরাসরি ঢুকে পড়া সহজ নয়। তবে অচেনা নম্বর থেকে আসা মেসেজ, বিভিন্ন গ্রুপে পাঠানো সন্দেহজনক লিঙ্ক বা এপিকে ফাইল ডাউনলোড করা কিংবা অজানা কোনও ফাইল খুললে বিপদ হতে পারে। অতীতেও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ির তালিকা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের লেনদেন সংক্রান্ত ভুয়ো অ্যাপ তৈরি করে তা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে একাধিক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনা ঘটে। হাতির গতিবিধি সংক্রান্ত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলিকেও এমন প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সাইবার ক্রাইম সূত্রে জানা গিয়েছে।
