ব্রতীন দাস: পাহাড়ে মোর্চার কোন্দল আরও বাড়ল। কালিম্পংয়ে বড়সড় ধাক্কা খেলেন বিনয় তামাং। বিধায়ক সরিতা রাই, কালিম্পং পুরসভার চেয়ারম্যান শুভ প্রধান সহ মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ জন গুরুংপন্থী সদস্য দল ছেড়ে দিলেন। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে গোর্খা জনমুক্তির সঙ্গে সবরকম সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করেন তাঁরা। দলের নেতৃত্বের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে।
[ছাত্রীকে যৌন নিগ্রহ-সিগারেটের ছেঁকা, শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে উত্তাল হাঁসখালি]
দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করে এদিন মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আর বি ভূজেল বলেন, তাঁরা বিমল গুরুংয়ের লোক নয়। আবার বিনয়-অনিতের সঙ্গেও নেই। দলে যা চলছে তা মেনে নিতে পারছিলেন না তাঁরা। পাহাড়ের মানুষের মধ্যে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সম্পর্কে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। তাছাড়া জেল হেফাজতে থাকাকালীন কাউন্সিলর বরুণ ভূজেলের মৃত্যুর ন্যায় বিচারও হয়নি। সব মিলিয়ে জনগণের ভাবনাকে মর্যাদা দিতে না পারাতেই মোর্চা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তবে, ভবিষ্যতে যদি কখনও পাহাড়ের মানুষের স্বার্থে তাঁদের দরকার হয়, তাঁরা ফের ময়দানে নামবেন বলে জানান আর বি ভুজেল।
[মধ্যযুগীয় বর্বরতা! পরপর তিন মেয়ের জন্ম দেওয়ায় গৃহবন্দি মা]
বিনয় তামাংয়ের নেতৃত্বে রাজ্যের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকগুলিতে যোগ দিয়েছেন কালিম্পংয়ের মোর্চা বিধায়ক সরিতা রাই। তার পরও আচমকা তাঁর দল ছাড়া প্রসঙ্গে সরিতাদেবী অবশ্য বলেছেন, ‘যা বলার আর বি ভূজেল বলেছেন।’ কালিম্পং পুরসভার মোর্চা চেয়ারম্যান শুভ প্রধান বরাবরই গুরুংপন্থী বলে পরিচিত। ওই পুরসভায় মোর্চার ভাইস চেয়ারম্যান-সহ দলের এগারোজন কাউন্সিলর ইতিমধ্যে বিনয় তামাং গোষ্ঠীতে যোগ দিলেও সে পথে হাঁটেননি তিনি। ফলে দার্জিলিংয়ের পাশাপাশি কালিম্পং পুরসভায় চেয়ারম্যান বদলে মহকুমা শাসককে শুক্রবারই চিঠি দেয় বিনয় শিবির। কিন্তু তারই মধ্যে শুভ প্রধানের মোর্চা ছাড়ার ঘটনায় আলোড়ন ছড়িয়েছে। পাহাড় ইতিমধ্যে বিনয় তামাংয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে এলেও কালিম্পংয়ে একসঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ জন সদস্যের পদত্যাগের ঘটনায় তামাং শিবির কিছুটা হলেও চাপে পড়বে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এনিয়ে অবশ্য বিনয় তামাং কিংবা অনিত থাপার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এদিন যাঁরা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন তারা গুরুংপন্থী ছিলেন, ফলে তাদের মোর্চা ছাড়ার ঘটনায় কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই জানিয়ে দিয়েছে বিনয় তামাং শিবির।
[বাজারে গিয়ে রংচঙে মাছ পছন্দ? আপনিই কিন্তু জালে পড়ছেন!]
