shono
Advertisement
Neymar

শেষ ষোলোয় খেলা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা, নেইমারের যন্ত্রণা উপলব্ধি করছেন আন্সেলোত্তি

মাঠে নব্বই মিনিট খেলার জায়গায় না পৌঁছলেও, ড্রেসিংরুমের আইডল হয়ে থাকুক। নেইমার সদৃশ উচ্চমানের একজন ফুটবল, ড্রেসিংরুমে বিচরণ করলে, সেটা দলের জুনিয়র ফুটবলারদের উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্যও ভোকাল টনিকের কাজ করে।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 05:47 PM Jul 04, 2026Updated: 07:05 PM Jul 04, 2026

গোল হলে আনন্দে ছুটে আসছেন। গোল না হলে, ডাগআউটে বসে দুঃশ্চিন্তায় নখ কাটছেন। কি মনে হয়? ম্যাচের পর ম্যাচ ডাগআউটে বসে খুব ভালো আছেন নেইমার? না থাকা যায়? তিনি নেইমার জুনিয়র (Neymar)। ব্রাজিলের সর্বাকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এর আগে সর্বোচ্চ ৬ বারের জন্য রিজার্ভ বেঞ্চে বসে খেলা দেখেছেন সতীর্থদের। কখনও জুনিয়র ফুটবলারদের দেখে নেওয়ার জন্য। কখনও চোট আছে বলে। কিন্তু এখন তো তিনি চোটমুক্ত। তাহলে? এতদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল, নব্বই মিনিট খেলার মতো জায়গায় নেই তিনি। ফলে সব কিছুর মধ্যেও মেনে নিতে হচ্ছিল, যে নব্বই মিনিট খেলার মতো ফিটনেসে নেই। সে কীভাবে শুরুর প্রথম একাদশে আসবেন? কিন্তু এদিন কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি নেমারের ফিটনেস নিয়ে যা বললেন, তারপরও যদি ব্রাজিল তারকা সেই ডাগআউটে বসেই সতীর্থদের খেলা দেখেন, তাহলে মানসিকভাবে কতটা যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে নেইমারকে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) কাটাতে হবে, সহজেই অনুমেয়।

Advertisement

নেইমার ও ভিনি। ছবি ইনস্টাগ্রাম।

সান্তোসের হয়ে চোট পাওয়ার পর নেইমারকে (Neymar) আদৌ এই বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রাখা হবে কি না, সেটাই ছিল ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জল্পনা। কিন্তু আন্সেলোত্তি শুরু থেকেই চাইছিলেন, নেইমার থাকুক। মাঠে নব্বই মিনিট খেলার জায়গায় না পৌঁছলেও, ড্রেসিংরুমের আইডল হয়ে থাকুক। নেইমার সদৃশ উচ্চমানের একজন ফুটবল, ড্রেসিংরুমে বিচরণ করলে, সেটা দলের জুনিয়র ফুটবলারদের উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্যও ভোকাল টনিকের কাজ করে। যেখানে নেইমার আবার ‘ইগোহীন’ ‘বন্ধুবৎসল’ একজন মানুষ। ফলে জাপানের বিরুদ্ধে ওয়ার্মআপ করিয়েও যখন নেইমারকে নামানো হল না, দিব্যি হাসি-খুশি ব্রাজিলিয়ান তারকা। কিন্তু এ তো গেল বাহ্যিক রূপের কথা। সত্যিই কি খেলতে না পেরে, ভিতরে ভিতরে গ্লানির আগুনে দগ্ধ হচ্ছেন না তিনি? ওয়ার্মআপ করিয়েও ডাগআউটে বসিয়ে রাখা হচ্ছে। ক্লাব বা জাতীয় দলে এ দৃশ্যর মুখোমুখি কবে হতে হয়েছে তাঁকে? ফলে হালকা হলেও ব্রাজিলিয়ান ড্রেসিংরুমে নেইমারের এই বসে থাকার ইস্যুটি কিন্তু নাড়াচাড়া শুরু হয়েছে।

তিনি ডন কার্লো আন্সেলোত্তি। চোখের সামনে রোজ পুত্রসম নেইমারকে বসে থাকতে দেখছেন। ব্রাজিল তারকার অন্তরে বয়ে চলা ঝড়ের ঠিকানার খোঁজ তিনি পাবেন না, এরকমটা হতে পারে না। ফলে আর রাখঢাক না রেখে নিউ জার্সির বেসক্যাম্পে অনুশীলন শেষ করে সাংবাদিকদের সামনে সরাসরিই বলেছেন, “জানি, ম্যাচ চলাকালীন বেঞ্চে বসে থাকার বিষয়টিতে নেমার কিছুতেই খুশি নয়। আর ব্যাপারটা খুশি হওয়ার মতোও নয়। ওর মতো ফুটবলার ডাগআউটে বসে রয়েছে, এটা স্বাভাবিক ঘটনা নয়। কিন্তু এটাও ঠিক যে, ওর মতো ভালো মানুষও হয় না।”

অনুশীলনে খোশমেজাজে নেইমার। ছবি সংগৃহীত।

ও হ্যাঁ, আন্সেলোত্তি এই বিষয়টা একদম পরিষ্কার করে দিয়েছেন, চোটমুক্ত নেইমার এই মুহূর্তে নব্বই মিনিট ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। এরকম পরিস্থিতিতে সাধারণত তাহলে কী হতে পারে? ম্যাচ খেলার জন্য সম্পূর্ণ ফিট নেইমার তাহলে নিশ্চয়ই গিয়ে তাঁর কোচের সঙ্গে কথা বলবেন। অথবা জানতে চাইবেন, তাঁকে নিয়ে কোচের পরিকল্পনা কী? কিন্তু কী আশ্চর্য। ব্রাজিল কোচ, অভিজ্ঞ আন্সেলোত্তি জানালেন, "এর একটাও কিছু নেইমার করেনি। মানে, একবারের জন্যও নেইমার, তাঁকে খেলানোর অনুরোধের বার্তা নিয়ে আন্সেলোত্তির কাছে যাননি।"

তাহলে ডন কার্লো বুঝলেন কী করে যে, ম্যাচ খেলার জন্য এরকম উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন ব্রাজিল ফুটবলের চিরকালীন ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার? কিন্তু আন্সেলোত্তিও তো অভিজ্ঞ কোচ। এরকম পরিস্থিতি দেখতে দেখতে চুল সাদা করে ফেলেছেন, পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ পকেটে রাখা কোচ। মজা করেই সাংবাদিকদের বলছিলেন, “সবই যদি মুখে বলতে হয়, তাহলে আর আমি আছি কেন? প্রতিদিন অনুশীলনে ওর যে একশো ভাগ দেওযার চেষ্টা, সেটাই প্রমাণ করে, মাঠে নামার জন্য নেইমার কতটা উদগ্রীব। আর নামটাও ভুলে যাবেন না, নেইমার। অনুশীলেন রোজ দেখছি, পঞ্চাশ শতাংশ বলা পাওয়ার সম্ভাবনাকেও একশো শতাংশ করার জন্য ঝাঁপাচ্ছে। ওর কষ্টটা বুঝতে পারছি।” তাহলে কি নরওয়ের বিরুদ্ধে পাকেতার জায়গায় নেইমারকে প্রথম দলে দেখতে পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা রয়েছে? ব্যস। এইবার স্পিকটি নট ডন কার্লো। যেন দ্রুত অন্য প্রসঙ্গে চলে যেতে পারলে স্বস্তি বোধ করেন।

শেষ ষোলোর ম্যাচে কি খেলবেন নেইমার? ছবি ইনস্টাগ্রাম।

এমনিতে চোট কাটিয়ে রাফিনহা ফুটবলারদের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরে আসায় দিব্যি খুশি খুশি দেখাচ্ছে তাঁকে। তবে পাশাপাশি এটাও ঠিক নরওয়ের বিরুদ্ধে খেলানো হবে না রাফিনহাকে। সব ঠিকঠাক থাকলে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের জন্য তৈরি করা হচ্ছে তাঁকে। এদিন ফের উঠছিল, জাপানের বিরুদ্ধে জয়সূচক গোলের প্রসঙ্গ। ওরকম হৃৎপিন্ড হাতে করে খেলা ম্যাচে জেতার পরেও আপনি দৌড়ে ফুটবলারদের দিকে যাবেন না? প্রশ্নটা শুনে আর থাকতে পারেননি কোচ। বরং একগাল হেসে বলেছেন, “আরে ভাই, এই বয়সে দৌড়লে আমার হাঁটুর সব পেশী ছিঁড়ে যাবে। আমার বয়সটা খেয়াল করো। আমি তো দৌড়তেই পারি না।’’ কিন্তু তা বলে এতটা ম্রিয়মান? এবার নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে পালটা উত্তর দিয়েছেন আন্সেলোত্তি। ‘‘আমার সঙ্গে এরকম কতবার হয়েছে। ম্যাচ জেতার আনন্দে লাফিয়েছি। শেষে দেখেছি, ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। ফলে এসব আনন্দ প্রকাশ করে কিছু হয় না। আর ম্যাচ জেতার জন্য শুধুই স্ট্যাটেজি নয়। মানিসিক ভাবেও নানা কাজ করতে হয়।’’ হয়তো সেই কারণেই নেইমারের মন পড়তে পারছেন তিনি। চোখের সামনে দেখতে পারছেন, খেলতে না পারায় ব্রাজিলের সর্ব্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলাররের মানসিক যন্ত্রণাটা। দলের সেরা তারকাকে নিয়ে ডন কার্লোর মাথায় যে কি ঘুরছে, একমাত্র তিনিই জানেন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement