সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই আজ শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। এসআইআর শুরু হওয়ার আগে ভোটার সংখ্যা থেকে চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়েছেন ৬৩ লক্ষের বেশি। আর এই তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। বিশেষ করে মতুয়া গড় হিসাবে পরিচিত নদিয়া জেলায় এসআইআর তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। জেলার প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী প্রায় ৬২ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ৯২- কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্রে। নাম বাদের তালিকায় রয়েছেন বহু মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। ফলে নতুন করে দেশছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে! যদিও এক্ষেত্রে হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকারের দাবি, তৃণমূল চক্রান্ত করে মতুয়া হিন্দু ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। এক্ষেত্রে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। যা নিয়ে পালটা তোপ দেগেছে তৃণমূল।
৯২- কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্রে পূর্বে মোট ভোটার ছিলেন ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ১৭৮ জন। প্রথম পর্যায়ে মৃত এবং স্থানান্তরিত মিলিয়ে ১৭,৮৭২ জনের নাম বাদ যায়। পরবর্তীতে আরও ৯,০৬৪ জনের নাম বাদ পড়ায় বর্তমান ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৬২। বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে ১২৫৯০ জনের নাম। ৯১-চাকদহ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথমে ১৩,২১৬ এবং পরে ৫,৮৬৪ জনের নাম বাদ গেছে। বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে ১৫১৬৮ জনের নাম। ৯৩- হরিণঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রেও একই ছবি! প্রথম দফায় ১০,৮২৪ এবং পরে ১,৫৩৯ জনের নাম বাদ পড়েছে। বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে ১৭৫০৩ জনের নাম।
আর এই তালিকা সামনে আসতেই এই ইস্যুতে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি চঞ্চল দেবনাথের দাবি, ''কল্যাণীতে নতুন করে বাদ পড়া ৯,০৬৪ জনের অধিকাংশই মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। যাদের ভোটে ভারতীয় জনতা পার্টি জয়ী হয়েছিল। ফলে ভোট ব্যাংকে কিন্তু একটা বড় প্রভাব পড়বে। বিজেপিকে কেউ এবার সমর্থন করবে না।'' তৃণমূল নেতার কথায়, এবার জেলার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ তৃণমূলের দিকেই থাকবে। পাল্টা শাসকদলের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ করেছেন হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার। তাঁর দাবি, ''তৃণমূল চক্রান্ত করে মতুয়া হিন্দু ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।''
এদিকে নাম বাদ পড়ার ঘটনায় রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছে মতুয়ারা। এমনকী আন্দোলনে নামারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের গোসাই পরিষদের সম্পাদক রঞ্জিত বাইন। তিনি বলেন, ''ষড়যন্ত্র করে উদ্বাস্তু নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষরা যাতে অধিকারহীন হয় তার চক্রান্ত করেছে বিজেপি। এর দায়ভার শান্তনু ঠাকুর এবং অসীম সরকারকে নিতে হবে।'' অন্যদিকে কল্যাণীর একাংশের মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের বক্তব্য, ঠাকুরবাড়ির গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জন্যই আজ এসআইআরের তালিকায় মতুয়াদের নাম বাদ পড়ছে। একদিকে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, অন্যদিকে তার জেঠিমা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর। দুই রাজনীতি দলের গোষ্ঠী কোন্দলে জর্জরিত ঠাকুরবাড়ি। ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে ঠাকুরবাড়িকে কলুষিত করেছে দু'পক্ষ। এমনকী তাঁদের লড়াইয়ে মতুয়ারা বলি হচ্ছে বলেও দাবি।
