পুকুর থেকে মাটি কাটতে গিয়ে চমকপ্রদ ঘটনার সাক্ষী রইলেন হুগলির পাণ্ডুয়াবাসী। মন্ডলাই গ্রামের পুকুরটি খুঁড়তেই কাদামাখা এক সুপ্রাচীন পাথরের মূর্তি উঠে এল! সেই মূর্তি পরিষ্কারের পর তার গঠন ও কারুকাজ দেখে অবাক হচ্ছেন সকলে। তা একটি দেবমূর্তি। মনে করা হচ্ছে, মূর্তিটি কয়েকশো বছরের পুরনো এবং সম্ভবত বিষ্ণুমূর্তি। পুরাতত্ত্ব বিভাগ বা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার দপ্তরে এই খবর দেওয়া হয়েছে। মূর্তি ঠিক কত পুরনো, কোন আমলের, কোন দেবতা - এই সব প্রশ্নের জবাব মিলবে এএসআইয়ের পরীক্ষার পর।
এই মূর্তিটি উদ্ধার হয়েছে পুকুরের মাটি কাটতে গিয়ে। নিজস্ব ছবি
গ্রামবাসীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই মন্ডলাই গ্রামের ওই পুরনো পুকুরটি সংস্কারের কাজ চলছিল। শনিবার সকালে শ্রমিকরা যখন পুকুরের তলার মাটি সরানোর কাজ করছিলেন, তখনই তাঁদের নজরে আসে একটি শক্ত পাথুরে বস্তু। কাদা সরিয়ে দেখা যায়, সেটি একটি সুবিন্যস্ত দেববিগ্রহ। খবরটি মুহূর্তের মধ্যে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকশো মানুষ পুকুরপাড়ে ভিড় জমান ওই মূর্তি দেখতে। উদ্ধার হওয়া মূর্তিটির নিখুঁত খোদাই এবং পাথরের প্রকৃতি দেখে অনেকে মনে করছেন, এটি পাল বা সেন যুগের। গ্রামবাসীরা আপাতত মূর্তিটি পরিষ্কার করে স্থানীয় মনসা মন্দিরে সংরক্ষিত করে রেখেছেন। অনেকে ইতিমধ্যেই মূর্তিটিকে পুজো করতে শুরু করেছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ বা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার নজরে আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এটি পরীক্ষা করার পরেই মূর্তির সঠিক বয়স ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। মন্ডলাই গ্রামের বাসিন্দারা চান, এই পুরাকীর্তিটি যেন যথাযথ মর্যাদার সাথে গ্রামেই সংরক্ষিত করা হয়। হুগলির পান্ডুয়া অঞ্চলটি এমনিতেই ঐতিহাসিক নিদর্শনের জন্য পরিচিত। মন্ডলাইয়ের এই নতুন আবিষ্কার এলাকার ইতিহাসের পাতায় আরও একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন ইতিহাসপ্রেমীরা।
