পাকা বাড়ি নাকি গোয়ারঘর! গত দুদিন ধরে সুন্দরা সূত্রধরের বাড়ি নিয়ে চলছিল তৃণমূল এবং বিজেপির রাজনৈতিক টানাপোড়েন। যা নিয়ে রীতিমতো মানসিক চাপ বাড়ছিল। এর মধ্যেই সেই গোয়ালঘরেই বাঁশের খুঁটিতে ঝুলে আত্মহত্যা করলেন সুন্দরা। ঘটনার পরই তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পান্ডবেশ্বরে। স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর চালান উত্তেজিত জনতা। শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। যদিও এই ঘটনায় তৃণমূল কিছুটা 'ডিফেন্সিভ' হলেও আক্রমণাত্মক বিজেপি। যদিও এই ঘটনায় বিজেপিকে একহাত নিয়েছেন মৃতার ছেলে দেব সূত্রধর। এমনকী বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি দোষী বলেও দাবি তাঁর।
পান্ডবেশ্বরের বৈদ্যনাথপুরের বেলডাঙার হুচুকডাঙার বাসিন্দা সুন্দরা সূত্রধর সরকারি প্রকল্পে বাড়ি না পাওয়া নিয়ে বেঁধেছিল রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি রীতিমতো সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে ওই মহিলার গোয়ালঘরকেই তাঁর ঘর বলে দাবি করেছিলেন। এমনকী ওই মহিলা বাংলা আবাস যোজনার ঘর পাওয়ার অধিকারী বলেও দাবি করেন বিজেপি নেতা।
শুধু তাই নয়, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে জিতেন তিওয়ারি দাবি করেন, দু'মাস পর বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই ওই মহিলাকে ঘর দেওয়া হবে। এহেন ভিডিও'র একদিন পরই পাল্টা শাসকদলের পক্ষ থেকে ভিডিও করে বলা হয়, ওই মহিলার একটি পাকা বাড়ি রয়েছে। তাই সরকারি প্রকল্পে বাড়ি পাওয়ার কথা নয় তাঁর। এমনকী টাকার বিনিময়ে সুন্দরাকে দিয়ে বিজেপি এটা করিয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। এর পরই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় শাসক- বিরোধী রাজনৈতিক তরজা। এই আবহেই শনিবার ওই গোয়ালঘরেই আত্মঘাতী হন সুন্দরাদেবী। 'নিজের' গোয়ালঘর থেকেই উদ্ধার হয় তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ। বাড়ি বা গোয়ালঘর নিয়ে বিতর্ক এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়নের কারণেই তীব্র মানসিক চাপে কী আত্মঘাতী হয়েছেন সুন্দরা দেবী? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই ঘটনার পরই স্থানীয় তৃণমূল কর্মী নীতু অধিকারীর ঘর ভাঙচুর করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ব্যাপক উত্তেজনা থাকায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে শনিবারই বেলডাঙায় ওই মহিলার বাড়ি যান তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, "ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। মানসিক অবসাদেই মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পরই জানা যাবে।"
এদিকে বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি এই ঘটনা নিয়ে সরাসরি শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, "এটা কি খুব দরকার ছিল? একজন গরীব মানুষ তাঁর সমস্যার কথা বলবেন এটা কী অন্যায়? ভোটে হার জিত আছেই। তার জন্যে এটা করতে হবে? আমার আশঙ্কা তাঁকে এই কথা বলা বলার জন্যে এমন চাপ দেওয়া হলো যে তার জন্যেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন। দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। পুলিশকে সঠিক তদন্ত করে দেখতে বলবো।" এদিকে ঘটনায় বিজেপি নেতাকে আক্রমণ করে মৃতের ছেলে দেব সূত্রধর বলেন, "এই জন্য জিতেন্দ্র তিওয়ারী দোষী। তার গ্রেপ্তারির দাবি করছি।"
