চেন্নাইয়ে কাজে গিয়ে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সুতিতে। কিন্তু দেহ বাড়িতে ফেরানোর সামর্থ্য নেই পরিবারের। তাই চাঁদা তুলে দেহ ফেরানোর উদ্যোগ নিয়ে প্রতিবেশীরা। কিন্তু কীভাবে মৃত্যু হল ওই শ্রমিকের? পরিবারের অভিযোগ, খুন করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মৃতের নাম আমাই মাঝি (২৮)। তাঁর বাড়ি সুতি থানার হাড়োয়া গ্রামপঞ্চায়েতের গাম্ভীরা গ্রাম। বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তাঁর সংসার। উপার্জনের আশায় গত বছর দুর্গাপুজোর সময় চেন্নাইয়ের আমাই তাম্বারামে বহুতল নির্মাণের কাজে গিয়েছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় সেখানেই তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। রাতে খবর আসে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বাড়িতে। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হবে। তারপর ফিরবে দেহ।
পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তি ছিলেন আমাই। চেন্নাইতে কাজ করতে গিয়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় অথৈ জলে পড়েছে গোটা পরিবার। কিন্তু কীভাবে মৃত্যু হল যুবকের? সূত্রের খবর, মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু তা জানা যায়নি। তবে পরিবারের দাবি, খুন করা হয়েছে আমাইকে। এপ্রসঙ্গে হাড়োয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রাখি রবিদাসের স্বামী তথা প্রধানের প্রতিনিধি সঞ্জয় রবিদাস বলেন, "সাম্প্রতিক সময়ে আমরা বারবার দেখেছি ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য মুর্শিদাবাদের বহু পরিযায়ী শ্রমিককে আক্রান্ত হয়েছেন। কয়েকজন মারা গিয়েছেন। আমাদের সন্দেহ আমাই-এর সঙ্গেও খারাপ কিছু হয়েছে। ওই যুবকের দেহ গ্রামে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে গোটা ঘটনাটি আমি জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানকেও জানিয়েছি।" এবিষয়ে সুতির তৃণমূল বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস বলেন, "গোটা ঘটনার কথা আমি শুনেছি। আমাদের সরকার এবং তৃণমূল সবরকমভাবে ওই পরিবারের পাশে থাকবে।"
