বেটিংয়ের নেশা স্বামীর। যার জেরে সংসারে আর্থিক অনটন। আর এর প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর। অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে শান্তিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন স্ত্রী সুস্মিতা বিশ্বাস। অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর দেওরের বিরুদ্ধেও। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত নীলরতন সিকদারের পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার। ফুলিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শান্তিপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ, রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত বেলঘরিয়া এলাকায়। স্ত্রী সুস্মিতা বিশ্বাসের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই মোবাইল ফোনে আইপিএল বেটিং খেলাকে কেন্দ্র করে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত। আর্থিক চাপ ও মানসিক অস্থিরতার কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। গৃহবধূর আরও অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। তাঁদের ছয় বছরের সন্তানও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংসারে আর্থিক অনটন প্রবল আকার নেয়। এই বিষয়ে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ সুস্মিতার। এই অবস্থায় শনিবার রাতে অশান্তি ব্যাপক আকার নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আজ, রবিবার সকালে স্বামী নীলরতন সিকদার তাঁকে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। শুধু তাই নয়, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়েও কটূক্তি করেন। এই অবস্থায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নীলরতন সরকারের সঙ্গে ঝামেলা তীব্র আকার নেয়। সেই সময় তাঁদের উপর বেশ কয়েকজন লোকজন চড়াও হয় বলে অভিযোগ। সুস্মিতা জানান, তাঁর দেওর, যিনি স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য লোকজন নিয়ে বাড়িতে চড়াও হন। এরপর বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে, তাঁর দিদিকে। এমনকী তাঁর মাকেও ছাড়া হয়নি বলে অভিযোগ। ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনজন মহিলাই। এরপরেই স্থানীয় শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সুস্মিতা।
সুস্মিতার আরও অভিযোগ, তাঁর স্বামী এবং দেওর পঞ্চায়েত সদস্য হওয়ার সুবাদে প্রভাব খাটিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার সহ্য করলেও পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে এতদিন চুপ ছিলেন বলে জানান তিনি। তবে এবার সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে থানার দ্বারস্থ হয়েছেন। যদিও অভিযুক্তদের দাবি, সুস্মিতা এবং তাঁর পরিবারের লোকজনই প্রথমে তাঁদের উপর হামলা চালায়। ঘটনায় ফুলিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে পালটা অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগ পালটা অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
