সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে পালাবদলের মাটি সিঙ্গুরে পা মোদির। আর সেখানে দাঁড়িয়ে দিলেন পরিবর্তনের ডাক। বাঙালি অস্মিতায় শানও দিলেন তিনি। এসআইআর আবহে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের ঘাড়ে ঠেলে দিলেন মোদি।
বারবার বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা ও বাঙালিকে বঞ্চনার অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্তার ইস্যুতে সরব গোটা বাংলা। এই পরিস্থিতিতে সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে জোর গলায় মোদি দাবি করলেন, বিজেপির মতো করে বাংলাকে সম্মান কেউ করে না। তাঁর দাবি, “বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতিও আমাদের সরকারের আমলেই হয়েছে। বিজেপি দিল্লিতে সরকার গঠনের পরই তা হয়েছে। এর ফলে বাংলা ভাষা নিয়ে গবেষণায় আরও গতি আসবে। বিজেপি সরকারের উদ্যোগেই দুর্গাপুজোকে ইউনেসকো কালচারাল হেরিটেজের স্বীকৃতি দিয়েছে।" রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপিকে অবাঙালিদের দল হিসাবে দাগিয়ে দেন অনেকেই। সে কারণেই বাংলার মন জিততে ভাষা, দুর্গাপুজোর মতো বাঙালি আবেগকে কাজে লাগাতে বদ্ধপরিকর মোদি।
শুধু তাই নয়। এসআইআর আবহে অনুপ্রবেশ ইস্য়ুতেও সুর চড়ান মোদি। গোটা দায় তৃণমূলের কাঁধে ঠেলে তিনি বলেন, “তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের এবং দেশের সুরক্ষা নিয়ে খেলা করছে। এখানকার তরুণদের বিশেষ করে সতর্ক থাকতে হবে। তৃণমূল এখানে অনুপ্রবেশকারীদের বিভিন্ন সুবিধা দেয়। অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে ধর্নায় বসে। তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের এই কারণেই পছন্দ করে, কারণ তারা ওদের ভোটব্যাঙ্ক অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে তৃণমূল যেকোনও পর্যায়ে যেতে পারে। গত ১১ বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকার মুখ্যমন্ত্রীকে বারবার চিঠি লিখছে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে কাঁটাতার দিতে জমি দরকার বলে জানানো হয়েছে। তাতেও কোনও হেলদোল নেই। যারা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ভুয়ো নথি বানিয়ে দেয়, তাদের সাহায্য করে তৃণমূল। অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। যাঁরা অতীতে বিভিন্ন ভুয়ো নথি বানিয়ে এ দেশের রয়েছেন, তাঁদেরও নিজের দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।” যদিও মতুয়াদের শনিবার গ্যারান্টি দিয়েছেন মোদি। প্রয়োজনে সিএএ করে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
